টেন্ডারের অনুমোদন আসেনি, পানীয় জল অমিল

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : কোচবিহার পুরসভার জলপ্রকল্পে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন লিটার জল উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু শহরের সমস্ত বাড়িতে এখনও সংযোগ দিতে না পারায় সেই জলের তিনভাগের একভাগও ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে বিপুল পরিমাণে জল নষ্ট হচ্ছে। বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য কোচবিহার পুরসভা প্রায় পাঁচ মাস আগে টেন্ডার করেছিল। কিন্তু সেই টেন্ডারের অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট (এমইডি)-এ আটকে গিয়েছে। কী কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন আসছে না তা পুরসভার জানা নেই। গোটা বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। কোচবিহার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। এজন্য মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেটে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। এখনও তার অনুমোদন আসেনি। তবে আশা করছি, শীঘ্রই অনুমোদন আসবে ও ওই কাজ শুরু করা যাবে। এ বিষয়ে ফোনে বহুবার চেষ্টা করেও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

কোচবিহার পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের বিবেকানন্দ স্ট্রিটে পুরসভার একটি জলপ্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পটি করতে ৬০ কোটি টাকার উপর খরচও হয়েছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন লিটার পানীয় জল উৎপন্ন হয়। কিন্তু শহরের মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছেন না। এই প্রকল্প থেকে প্রায় ১৮ হাজার বাড়ি বা পরিবারের কাছে সংযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ছয় হাজার বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২ হাজারের মধ্যে আরও প্রায় ৭ হাজার বাড়িতে সংযোগ দিতে কোচবিহার পুরসভা ২৫ জুন টেন্ডার করেছিল। ওই টেন্ডারে চারজন অংশ নেন। এরপর যে এজেন্সি কাজ পাবে তার কাজের দর সহ যাবতীয় সমস্ত কিছু দেখে মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টরেট কাজের অনুমোদন দেবে। এজন্য কোচবিহার পুরসভা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে শিলিগুড়িতে সমস্ত কাগজপত্র পাঠিয়েছিল। সেখান থেকে ওই কাগজপত্র কলকাতায় গিয়েছে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে কাজের অনুমোদন এখনও আটকে রয়েছে। এর জেরে পুরসভা কাজ শুরু না করতে পারায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি, পাল্লা দিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। শীঘ্রই সমস্যা মেটাতে তাঁরা প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -