উদ্বেগ বাড়ছে রায়গঞ্জ-ইটাহারে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন

567

রায়গঞ্জ: শনিবার ফের জল ঢুকতে শুরু করায় উদ্বেগ বাড়ছে রায়গঞ্জ-ইটাহারের বিস্তীর্ণ এলাকায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক তৎপরতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিন রায়গঞ্জ ব্লকের শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের ধোয়াবিষুয়া, পানিশালা, ডাঙ্গাপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। এরফলে জলমগ্ন হয়েছে পানিশালা এলাকার ভারত গ্যাস প্ল্যান্ট। এদিকে শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্মশান ঘাট সহ বিঘার পর বিঘা ধানের জমি জলের নিচে চলে গিয়েছে।

- Advertisement -

শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কনিকা নাগবংশী কোড়া বলেন, “শেয়ালতোর, শুকুটলা, দক্ষিণমহিগ্রাম, ধোয়াবিশুয়া, চোপড়া সংসদে নাগর নদীর জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। প্লাবনের বিষয়ে রায়গঞ্জের বিডিওকে জানানো হয়েছে।

রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন,”বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। ত্রিপল, ত্রাণ সামগ্রী বিলি করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।” এদিন ওই সমস্ত গ্রামে গিয়ে দেখা গেল একাধিক বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে একের পর এক গ্রাম। নৌকাই একমাত্র ভরসা। তাও পারাপারের জন্য মোটা টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ।

অন্যদিকে, মহানন্দা নদীর জলে প্লাবিত হল ইটাহার ব্লকের বেশকিছু গ্রামের একাংশ। জলের তোড়ে বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বানভাসি মানুষরা। মহানন্দা নদীর জলে প্লাবিত হল ইটাহার ব্লকের ডামডোলিয়া বাজিতপুর, বাড়িওল, গোরাহার, বারিওল সহ বেশকিছু গ্রাম। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বক্তব্য, “বারিওলের নদীর ধারের কিছু বাড়ি এদিন সকাল থেকে জল ঢুকতে শুরু করেছে। এই নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত বিষয়টি বিডিওকে জানানো হয়েছে।”

রায়গঞ্জ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ডামডোলিয়া, বাজিতপুর বারিওল ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেল মহানন্দা নদীর বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশের ফাটল ধরেছে মেরামতিতে হাত লাগিয়েছে সেচ দফতরের কর্তারা। সেচ দপ্তরের জেলা বাস্তুকার উত্তম কুমার হাজরা বলেন, “ইটাহার এলাকায় পাঁচ হাজার বালির বস্তা মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইটাহারের বিডিও আবুল আলা মামুদ আনসার বলেন, বাড়িউল ঘাট, সুরুন, পাজোল, গুলন্দর সহ বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শন করেন। বানভাসি মানুষদের জন্য শুকনো খাবার, ত্রিপল, জলের পাউচ বিতরণ করে। পাশাপাশি চাল-ডাল, আলু সহ যাবতীয় সামগ্রী তুলে দেয় তাঁদের হাতে।