তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে থমথমে হালিশহর, ধৃত ২

264

ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের উপর হামলার পর সোমবার সমগ্র হালিশহর এলাকা ছিল থমথমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে এলাকায়। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গতকাল হালিশহরের বৈদ্যপাড়ার নয় নম্বর গেটের কাছে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে বৈঠকে বসেছিলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। সেই সময় আচমকাই তৃণমূল আশ্রীত দুষ্কৃতীরা ওই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগে। শুধু তাই নয় সেখানে অর্জুন সিংয়ের গাড়ি সহ বেশ কয়েকটি বাইক ভাঙচুর করা হয়, এমনকি তাতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর সেই ঘটনার পরপরই উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র হালিশহর এলাকা।

- Advertisement -

গতকালের ঘটনার প্রতিবাদে আজ জগদ্দল থানার বাসুদেবপুর মোড় সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বিজেপির তরফে পথ অবরোধ করা হয়। পরে অবশ্য পুলিশ সেখানে পৌঁছে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বললে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা।

এদিন ওই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘তৃণমূলের কেউ নন, অর্জুন সিংয়ের বাহিনীই তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে।’ তার মতে, বিজেপি বদলার রাজনীতি শুরু করেছে। আসন্ন নির্বাচনে এলাকার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবেন।

ব্যারাকপুর এর প্রাক্তন সাংসদ তথা সিপিএম নেতা তড়িৎ তোপদার বলেন, ‘স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিণতিই হল এই ঘটনা। এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনকে নিজেদের প্রয়োজন মতো কাজে লাগাচ্ছে। আর তারই জেরে এই ঘটনা ঘটছে।’ তিনি বলেন, ‘এরকম ঘটনা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে একটা বড় ধরনের সংঘর্ষ দেখা দেবে।’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘গতকালের ঘটনা নতুন কিছু নয়। যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে ততদিন তাদের গুন্ডাবাহিনী হামলা চালিয়ে যাবে।’ তার মতে, তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা সমাজের বুকে হিংসা ও উত্তেজনা ছড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদের ওপর বিশেষ করে তাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলে পুলিশও হাত গুটিয়ে বসে থাকে। এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না।’ প্রসঙ্গত, গতকালের ঘটনার পর এদিন সমগ্র হালিশহর, কাঁচরাপাড়া এলাকায় পুলিশি টহল দেখা যায়।