একশো দিনের কাজ নিয়ে উত্তেজনা তুফানগঞ্জের ভৈরবেরটারিতে

488

তুফানগঞ্জ: একশো দিনের কাজ নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের ভৈরবেরটারি এলাকায়। বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। এরপরই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী লাঠি হাতে একত্রিত হলে এই নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জানা গিয়েছে, এদিন সুপারভাইজার মেহেরুল ইসলাম কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে একশো দিনের আওতাভুক্ত বাঁধের কাজ সংস্কার করাতে যান। তিনি এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতা। অভিযোগ, তিনি এলাকায় গেলেই কাজে বাঁধা দেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পরিচন খাতুন এবং বুথ সভাপতি। এই খবর চাউর হতেই দেওচড়াই অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফারুক মণ্ডলের অনুগামীরা একত্রিত হন। অন্যদিকে, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে একত্রিত হন অন্যরাও। এতেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়। এরপরই একপক্ষ পিছু হটলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

- Advertisement -

এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পরিচন খাতুন জানান, এদিন অবৈধভাবে এলাকায় ১০০ দিনের কাজ করতে এসেছিলেন ফারুক মণ্ডলের লোকজন। তৃণমূল কংগ্রেস অবৈধ কাজের স্বীকৃতি দেয়না। তাই আমরা কাজে বাধা দিয়েছি। কাজে বাধা দিতেই বহিরাগতদের এলাকায় নিয়ে আসে ফারুক মণ্ডলের লোক। এটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। তাই এলাকার লোক স্বত:স্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা ২৪৭, ২৪৮, ২৪৯, ২৫০ নম্বর বুথের অবজার্ভার গোলাম নবি মণ্ডল বলেন, ‘এদিন বিজেপি আশ্রীত দুষ্কৃতীরা একশো দিনের কাজে বাধা দেন। পাশাপাশি জননেতা তথা দেওচড়াই অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফারুক মণ্ডলের প্রতি কুৎসা রটায়। এই ঘটনায় আমরা এলাকায় একত্রিত হয়েছি। ফারুক মণ্ডল আমাদের নির্দেশ দিলে আমরা এলাকা ছেড়ে দিই।’ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

একশো দিনের সুপারভাইজার মেহেরুল ইসলাম বলেন, ‘এদিন ২৪৯ নম্বর বুথে বাধের সংস্কারের জন্য কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং অন্যরা বাধা দেন। এরপর বিষয়টি প্রশাসনিক ও অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিকে জানানো হয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই আমরা ফিরে আসি।’

দেওচড়াই অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফারুক মণ্ডল জানান, ১০০ দিনের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ওপর মহলে জানানো হয়েছে। কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দলের বা বিরোধী দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের প্রতি আইনানুগ এবং দলের কেউ জড়িত থাকলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।