পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি নির্বাচনে টানটান উত্তেজনা

109

কালিয়াগঞ্জ: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জের মাটিতে নিজেদের গড় ধরে রাখতে পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতির পদে সংখ্যালঘু তাস খেলে বাজিমাত করার চেষ্টা করলো তৃণমূল। কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির নতুন সহকারী সভাপতি নির্বাচিত হলেন কালিয়াগঞ্জ ব্লকের মোস্তাফা নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ নং পঞ্চায়েত সমিতির আসনে তৃণমূল প্রতীকে জয়ী প্রধান গোলাম মোস্তাক।বৃহস্পতিবার, দুপুর ১টায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিতে বিডিও অফিসের একটি কক্ষে এসডিও অর্ক ঘোষ এবং এই ভোটের প্রিসাইডিং অফিসার ভূমিকায় কালিয়াগঞ্জের বিডিও অফিসের জয়েন্ট বিডিও ডুমিত লেপচার উপস্থিতিতে তৃণমূল ও বিজেপির মোট ২৪ জন সদস্যদের উপস্থিতিতে শুরু হয় ভোটদান পক্রিয়া। কিছুক্ষণের মধ্যে বিজেপির ১১ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা ভোট দানে বিরত থেকে ভোটকক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন। তাদের দাবি, অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট পক্রিয়া করানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। তাই তাঁরা ভোটদানে উপস্থিত থাকা উচিৎ না মনে করে ভোটকক্ষ ত্যাগ করা হয়। ভোটদানের এই অবৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁরা পরবর্তীতে দলীয় নির্দেশানুসারে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের নিকট দারস্থ হবেন বলে দাবি করেন।

এদিকে তৃণমূল সদস্যরা উলটে দাবি করেন, মোট ২৪ জন সদস্যদের মধ্যে ১৩ জনই তৃণমূল সদস্য। তাই বিজেপির এই সহকারী সভাপতি নির্বাচনের ভোটে হেরে যাওয়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। তাই হারের লজ্জা ঢাকতে আগে ভাগে ভোট কক্ষ ত্যাগ করে পদ্মের সদস্যরা। তবে, পঞ্চায়েত আইনকে মান্যতা দিয়েই সম্পূর্ণ ভোট পক্রিয়া সম্পাদিত হয়েছে বলে জানান ভোটের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা বিডিও অফিসের জয়েন্ট বিডিও ডুমিত লেপচা।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি লিখিত ভাবে কালিয়াগঞ্জের স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তপন দেব সিংহ এই পদ থেকে অব্যাহতি দেন।বিধানসভা কেন্দ্রীক দলীয় কর্মব্যস্ততা সাথে সরকারি কাজের চাপ সহ সর্বপরি একব্যাক্তি একপদকে মান্যতা দিতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত গ্রহন বলে তিনি জানিয়ে ছিলেন। অব্যাহতি পর থেকেই পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য তথা তৃণমূলের দুর্দিনের আস্থাশীল নেতা প্রধান গোলাম মোস্তাকের নাম উঠে আসে। দলীয় শৃঙ্খলতাকে মান্যতা দিয়ে তৃণমূলের কোন নেতার মুখে প্রকাশ্যে নাম উচ্চারণ না হলেও বিগত পঞ্চায়েত সমিতির অভিজ্ঞতা, সৎ, সুসংগঠক বিচারে রাজনৈতিক মহলে মোস্তাকের নাম আগামীর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি হিসেবে ভেসে ওঠে।

এই বিষয়ে কালিয়াগঞ্জের পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি সদস্য তথা বিরোধী দলনেতা উৎপল মজুমদার বলেন, ‘আমাদের পঞ্চায়েত সমিতির প্রত্যেক বিজেপি সদস্যরা আজ ভোট কক্ষে সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়ে ছিলেন। কিন্তু,  ভোটদানের ক্ষেত্রে কোন গোপনীয়তা আজ রাখা হয়নি। আমরা চেয়ে ছিলাম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রত্যেক ভোটারের ভোট গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেওয়া হোক।‘ কিন্তু, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক আধিকারিকেরা বলেন, ‘ওপেন ভোট হবে।আমরা এই ভোটদানের পদ্ধতিকে সদস্যদের গনতান্ত্রিক অধিকারকে লুন্ঠন করা হলো বলেই মনে করি। রাজ্যের সমস্ত এলাকায় প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলশাসিত রাজ্য সরকার নির্বাচন পরিচালনা করছেন। আজ এখানেও তার কিছু অনথ্যা হল না। আজকের এই বিষয়টি দলীয় কার্যকর্তাদের সন্মুখে আমরা তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নজরে আনার চেষ্টা করব।‘

এদিকে কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তপন দেব সিংহ বলেন, ‘দলীয় নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে আমরা আজ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য প্রধান গোলাম মোস্তাককে সহকারী সভাপতির পদে আসীন করালাম। আমরা পঞ্চায়েত আইনকে মান্যতা দিয়ে সঠিক সময়ে ভোট কক্ষে উপস্থিত হয়েছিলাম। বিজেপির সদস্যরা লড়াইয়ের আগেই নিশ্চিত হেরে যাবার গন্ধ পেয়ে ভোট দানে বিরত থেকে ময়দান ছেড়ে চলে গিয়েছে।তাই আমাদের ১৩ জন তৃণমূল সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সহকারী সভাপতির পদে প্রধান গোলাম মোস্তাক আজ থেকে আসীন হলেন। সমস্ত ভোট পক্রিয়া পঞ্চায়েত আইন মেনেই হয়েছে। বিজেপি সব জায়গাতেই এই ধরনের আচরণে অভ্যস্ত।‘

নব নিযুক্ত পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি প্রধান গোলাম মোস্তাক বলেন, ‘দল আজ আমাকে যে সন্মান দিল তাতে আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার তৃণমূলের অনান্য সদস্যদের যারা আমায় ভরসা করেছেন। চেষ্টা করব দায়িত্বের সাথে নিজের কর্তব্য পালনে।‘

অগনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটদানের দাবিকে খারিজ করে কালিয়াগঞ্জ বিডিও অফিসের জয়েন্ট বিডিও তথা এই ভোট পক্রিয়ার প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডুমিত লেপচা বলেন, ‘আমরা প্রত্যেককে আজকের এই ভোট পক্রিয়ার বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। পঞ্চায়েত আইনকে মান্যতা দিয়েই আমরা সমস্ত কাজগুলি করেছি। পঞ্চায়েত আইন অনুসারে ওপেন ভোটের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করবার নেই।‘