শিশুমৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উত্তেজনা

296

রায়গঞ্জ: শিশুমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা হেমতাবাদ থানার বাঙালবারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। শনিবার সকাল নটা নাগাদ ওই ঘটনায় মৃত শিশুর পরিবারের লোকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে তাঁদের দুই বছরের কন্যা সন্তানের। এদিন সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়ি সংলগ্ন দিঘিতে পড়ে যায় দুই বছরের কন্যা সন্তান। সেই সময় মা দিঘির পাড়ে বাসন মাজছিলেন। আচমকাই জলের তলিয়ে যায় দুই বছরের শিশু। মায়ের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন স্থানীয়রা।

তড়িঘড়ি ওই শিশুকে উদ্ধার করে বাঙালবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় পরিবার। কিন্তু সেখানে ছিলেন না চিকিৎসক ও নার্স। একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী অক্সিজেন লাগিয়ে চিকিৎসা শুরু করে, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। চিকিৎসক ও নার্স না থাকার জন্যই বেঘোরে মরতে হল দু বছরের শিশুকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তীব্র উত্তেজনা দেখা যায় বাঙালবারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরিবার-পরিজনেরা রীতিমত বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ঘটনার খবর চাই হেমতাবাদ থানায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্স থাকার কথা থাকলেও না থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে হেমতাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগের হুঁশিয়ারি দেয়।

- Advertisement -

এদিকে চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে যাতে মামলা না হয়, সেই কারণে পুলিশ মৃত শিশুর পরিবার পরিজনদের ময়নাতদন্তের কথা বলেন। পুলিশের বক্তব্য, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। ঝামেলা না করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন হেমতাবাদ থানার পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ মৃত শিশুর বাবা গোপাল বৈশ্যর। এরপর পুলিশের গাড়িতে করেই মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় মৃত শিশুর বাড়িতে। মৃতদেহ নিয়ে আসতেই হেমতাবাদের শাসন স্কুল পাড়ায় রীতিমতো শোকের ছায়া নেমে আসে। কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের মা ও পরিবার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম গৌরী বৈশ্য (২)। বাড়ি হেমতাবাদ থানার বাঙ্গালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসন গ্রামে। মৃত শিশুর মা পার্বতী বৈশ্য বলেন, বাড়ি সংলগ্ন দিঘিতে বাসন মাজার কাজ করছিলাম। সেই সময় আমার দুই বছরের মেয়ে আমার সঙ্গে ছিল। আচমকাই জলে পরে গিয়ে তলিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার করে বাঙালবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় আমার মেয়ের।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শ্যামল বৈশ্য বলেন, চিকিৎসক ও নার্স না থাকার জন্যই মৃত্যু হল ওই শিশুর। পুলিশ যতই হুমকি দিক ওই সময় যারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সকে ছিলেন, তাঁদের নাম জেনে লিখিত অভিযোগ করা হবে হেমতাবাদ থানায়। এই প্রসঙ্গে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিক মণ্ডলকে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন। ফুলতলা থানার ওসি দিলীপ রায়কে ফোন করা হলে তিনি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে নারাজ।