দুই ঠিকাদার গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে উত্তেজনা

212

চাপাডাঙ্গা: গ্রাম পঞ্চায়েতের সিসি রোডের কাজ পাওয়া নিয়ে দুই ঠিকাদার গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে উত্তেজনা ছড়াল মাল ব্লকের চাপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে চলে দুই ঠিকাদার গোষ্ঠীর বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় চত্বরে নামানো হয় বিরাট পুলিশবাহিনী। শেষমেষ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় ই-টেন্ডার না খুলে মাল সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয় ই-টেন্ডারটি খোলার সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জানা গিয়েছে, ব্লকের চাপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাবুরি পাড়া ও বাবু পাড়ার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি সিসি রোড হওয়ার কথা। গত জুলাই মাসের ১৬ জুলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিষয়ে টেন্ডার ডাকা হয়। ২৮ জুলাই ছিল টেন্ডার জমা করার শেষ দিন।

- Advertisement -

তৃণমূল পরিচালিত স্থানীয় ঠিকাদার ইউনিয়নের সম্পাদক দীপু রায় অভিযোগ করেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজই এলাকার সমস্ত ঠিকাদাররা ইউনিয়নগতভাবে নির্ধারণ করে কাজ করে থাকেন। এই কাজটিও ইউনিয়নগতভাবে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল লিখিতভাবে। এরই মাঝে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সন্ধ্যা রানি রায়ের স্বামী তথা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান রমনি রায় বহিরাগত ঠিকাদারকে দিয়ে কাজের টেন্ডার জমা করেন। দীপুবাবু অভিযোগ করে বলেন, ‘শুধু রমনিবাবুই নয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে রমনিবাবুর পছন্দ করা বহিরাগত ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য গত ৩১ শে জুলাই ই-টেন্ডার খোলার কথা থাকলেও সেদিন মিথ্যে কারণ দেখিয়ে টেন্ডার খোলেনি।’ যদিও সেদিন টেকনিক্যাল কারণেই ই-টেন্ডার খোলা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নন্দিতা রায় মল্লিক। তিনি জানান, ৩১ জুলাইয়ের পরিবর্তে ৩ অগাস্ট যে টেন্ডার খোলা হবে সেটা সকলকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল।

অপরদিকে, ঠিকাদারের অপরপক্ষ তথা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এর স্বামী রমনী রায় জানান, সবাই নিয়মমাফিক ই-টেন্ডারের কাজের দাবি জানিয়েছেন। সরকারি নিয়মে যাদেরকে কাজ দেওয়া হবে তাতেই আমরা রাজি। দু’পক্ষের এই বিবাদের জেরে এদিন সকাল থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে দু’পক্ষের বহু মানুষ জড়ো হন। গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে চলে বিক্ষোভও। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় উপস্থিত হয় বিরাট পুলিশবাহিনী। আসেন মালের এসডিপিও দেবাশিস চক্রবর্তী সহ ক্রান্তি ফাঁড়ির ওসি দিলীপ সরকার প্রমুখ। অবশেষে স্থানীয় প্রধানের নেতৃত্বে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা বসে মালের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন ই-টেন্ডারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিবর্তে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরে খোলা হবে। বিষয়টি ডেকে ঠিকাদারদের জানিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

মালের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিমানচন্দ্র দাস জানান, গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় এদিনের সমস্যার জন্য তার কার্যালয়ে ই-টেন্ডারটি খোলা হয়। আগামী ৬ জুলাই যারা কাজের জন্য ই টেন্ডার দাখিল করেছেন তাদের সমস্ত নথি নিয়ে দেখা করতে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।