জেলাশাসক দপ্তরে বিজেপির অভিযান ঘিরে উত্তেজনা

603

রায়গঞ্জ: হেমতাবাদের বিধায়ক খুন এবং চোপড়ার কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ সহ দাড়িভিটে দুই ছাত্রকে গুলি করে খুনের ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিতে জোরালো আন্দোলনে সামিল হল উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপি। সোমবার দলের মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় জেলাশাসকের দপ্তর ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ল কয়েক হাজার মহিলা কর্মী সমর্থক। নেতৃত্বে ছিলেন মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার মহিলা সভানেত্রীরা। ঘেরাও বিক্ষোভের শেষে অগ্নিমিত্রা পল সহ পাঁচ মহিলা নেত্রী জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে পাঁচদফা দাবিপত্র তুলে দেন।

তবে জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনার পরিবর্তে অতিরিক্ত জেলাশাসক কাজল কান্তি সাহার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “খুনিদের শাস্তির দাবিতে পথে নেমে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের তৃণমূলের পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলবন্দি করছে। বিজেপির কর্মীদের আন্দোলন বন্ধ করতে নানা যড়যন্ত্র করছে মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মহিলা নেতৃদের পাশে দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন দলের মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী আরও বলেন,”জেলায় চারজনকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। সেই ঘটনায় আসল অপরাধীদের না গ্রেপ্তার করে দলে দলে বিজেপির নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলা রুজু করে জেলে ভরা হচ্ছে। এই অবস্থায় জেলার রায়গঞ্জ এবং ইসলামপুর মহকুমা জুড়ে পর পর চার খুনে সিবিআই তদন্তের দাবি সহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি আন্দোলনের অংশ নিতে আমাকেও কলকাতা থেকে উত্তর দিনাজপুরে আসতে হয়েছে। সিবিআই তদন্তের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের মা বোনদের আন্দোলন অব্যহত থাকব।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে হেমতাবাদের বিধায়ক বিজেপির দেবেন্দ্রনাথ রায় বিন্দোলের বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দুরে ঝুলন্ত দেহ মেলে। খুন করে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় আসল অপরাধীদের আড়াল করতে ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে। তারপর চোপড়ায় সোনাপুরের বাড়ির অদুরে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ইসলামপুর ব্লকের দাড়িভিট হাই স্কুলে মাধ্যমিকের সহ শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হতে হয় ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র তথা ইসলামপুর কলেজের ছাত্র রাজেশ সরকার এবং তাপস বর্মনকে। সেই ঘটনার সিআইডি তদন্ত এখনও চলছে। কিন্তু পরপর চার খুনের ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত দোষীদের এখনও কিনারা হয়নি।

বিজেপির অভিযোগ, হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের খুনে জড়িত প্রকৃত দোষীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তারপর চোপড়ায় মাধ্যমিক উত্তীর্ণ কিশোরীকে বাড়ি থেকে ডেকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ আছে। উল্টে বিজেপি করার জন্য মৃতার বাবা ও দুই ছেলে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এমনকী কিশোরী হত্যার প্রতিবাদ করায় বিজেপির ২৪ জন কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, দাড়িভিট স্কুলের প্রাক্তন দুই ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন। সেই ঘটনার তদন্ত চলছে সিআইডির অধীনে। কিন্তু সেই ঘটনায় মৃত ছাত্রের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড়।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ীর সাফ কথা, “অনেক হয়েছে। পরপর বিজেপির মানুষ খুন হচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল সরকার আসল খুনিদের আড়াল করতে তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে দিতে ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু সিবিআই তদন্ত শুরু করলেই বিধায়ক খুন সহ চার খুনের আসল অপরাধীরা ধরা পড়বে।”

অন্যদিকে, হেমতাবাদের বিধায়কের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করেছে। তারপর দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানান মৃত বিধায়কের পরিবার। এদিন জেলাশাসকের দপ্তর ঘেরাও বিক্ষোভে কর্ণজোড়ার বিভিন্ন এলাকা বাঁশ ব্যারিকেড করে ব্যাপক পুলিশি উপস্থিত ছিল। প্রচুর মহিলা পুলিশ মোতায়ন করা হয়। তবে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চোপড়া কাণ্ডে বিজেপির অনেক কর্মী গ্রেপ্তার হয়ে জেলে রয়েছে। এই অবস্থায় আর ঝুঁকি নিতে সম্ভবত রাজি হয়নি বিজেপি। তবে দলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে বিজেপি কর্মীদের জামিন ও সিবিআই তদন্তের জন্য আন্দোলন জারি থাকবে।”

এদিন বেলা এগারোটা থেকে কর্ণজোড়ায় কয়েক হাজার মহিলা জমায়েত করেন। তারপর সেখান থেকে জেলাশাসকের দপ্তর পর্যন্ত মিছিলে সামিল হন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তবে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বাঁশের ব্যারিকেডে মিছিল থামিয়ে দেয় পুলিশ।পুলিশের বাঁধায় সেখানেই বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। বিক্ষোভ দেখিয়ে সেখানেই বসে পড়েন মহিলারা। বাঁশের ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা করে। তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।