চাঁচলের লাইব্রেরির জমি দখলকে ঘিরে উত্তেজনা

221

চাঁচল: লাইব্রেরির সামনে সরকারি জমি দখলকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল চাঁচলে। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কুমার শিবপদ মেমোরিয়াল লাইব্রেরি চাঁচলে অবস্থিত। সেই লাইব্রেরির জমিতে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ ভাড়া দেওয়ার জন্য দুটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করছে। কতিপয় বাসিন্দার দাবি, অবৈধভাবে জবর দখল করে ওই লাইব্রেরির প্রশাসক ব্যক্তিগতভাবে পাকা দোকানঘর নির্মাণ করছেন। এতেই আপত্তি চাঁচলের একাংশ বাসিন্দাদের। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে চাঁচলের একাংশ বাসিন্দা নিজেরাই লাইব্রেরির জমি যে যার মতো দড়ি দিয়ে মাপ করে দখল করে নেন। লাইব্রেরির জমি জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই বিষয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হবে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানাবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, কুমার শিবপদ মেমোরিয়াল লাইব্রেরির এক কোণে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করছেন লাইব্রেরির প্রশাসক সুমিত সরকার নিজেই। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ ঘর নির্মাণ করলে বাসিন্দাদের কোনো আপত্তি ছিল না। এদিকে, ওই দোকান ঘর নির্মাণের প্রতিবাদ জানাতে যেভাবে চাঁচলের কিছু মানুষ দড়ি দিয়ে মেপে যে যার মতো করে লাইব্রেরি মাঠের জমি দখল করে নিল। তা রীতিমতো হতবাক চাঁচলের আপামর জনসাধারণ। দ্রুত যেন সমস‍্যার সমাধান হোক সেই অপেক্ষায় গোটা চাঁচলের নাগরিক।

- Advertisement -

চাঁচলের তৃণমূল নেতা রায়হানুল হক বলেন, ‘চাঁচলে কুমার শিবপদ মেমোরিয়াল লাইব্রেরির মাঠের জায়গা অবৈধ দখলদারিদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছি। বিরোধী কংগ্রেসের মদতে এভাবে জমি দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।‘

চাঁচল-১ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আনজারুল হক জনি বিপরীত সুরে বলেন, ‘এতে কংগ্রেস জড়িত নয়। প্রশাসক সুমিত সরকার নিজেই জমির একাংশে ঘর তুলছিলেন। সুমিতবাবু চাঁচল-১ ব্লক টিএমসিপির সভাপতি। তাই ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশ জমি দখল করে নিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশ, প্রশাসনকে বলবেন। যাতে লাইব্রেরি মাঠ দখল মুক্ত হয়।‘

অন্যদিকে, জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন খুব দ্রুত যাতে চাঁচল কুমার শিবপদ মেমোরিয়াল লাইব্রেরি মাঠ দখলমুক্ত হয় সে বিষয়টি পুলিশকে দেখার অনুরোধ করবেন।

লাইব্রেরি পরিচালন সমিতির প্রশাসক সুমিত সরকার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কংগ্রেসের অভিযোগ ঠিক নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘর করছি না। লাইব্রেরির দুটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল লাইব্রেরির নিজস্ব জমিতে। দোকানঘর ভাড়া দিয়ে যাতে লাইব্রেরির আয় বাড়ে। যারা দড়ি দিয়ে মেপে নিজের মতো করে লাইব্রেরির মাঠের জমি দখল করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানো হবে।‘

চাঁচলের এসডিও সঞ্জয় পাল বলেন, ‘আপাতত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য আগামী ১৪ জানুয়ারি এক সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে উভয় পক্ষকেই ডাকা হয়েছে।‘