ভোটের মুখে উত্তর দিনাজপুরে পুরোহিতদের নিয়ে টানাটানি

525

রায়গঞ্জ: ২০২১ বিধানসভা ভোটের আগে পুরোহিতদের মন পেতে রাজ্য সরকার এক হাজার টাকা ও সরকারি আবাস দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। এরপরেই তাদের নিয়ে শুরু হয়েছে টানাটানি। এতে ক্ষুদ্ধ পুরোহিতদের বড় অংশ। কারণ, একদিকে তৃণমূল চাইছে পুরোহিতদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে, অন্যদিকে বিজেপি পিছিয়ে নেই কোনো অংশে। তাই পুরোহিতদের বড় অংশ কোনো দিকেই না গিয়ে আজ উত্তর দিনাজপুর পুরোহিত কল্যাণ পরিষদ নামে একটি বৃহৎ সংগঠন গড়ে তুললেন। রায়গঞ্জ বন্দর আদি কালি বাড়িতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত শনিবার এই কালিবাড়িতেই রায়গঞ্জের প্রায় ২০০ পুরোহিত আইএনটিটিইউসি-র ছাতার তলায় সমবেত হয়ে তৈরি করেছিলেন উত্তর দিনাজপুর পুরোহিত কল্যান সমিতি। উপস্থিত পুরোহিতেরা আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি অরিন্দম সরকারের উপস্থিতিতে সংগঠনের পতাকা হাতে তুলে নেন। এই খবর এক মাত্র উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত হতেই চারিদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কোনো শ্রমিক সংগঠনের পতাকার তলায় পুরোহিতেরা সমবেত হওয়ায় অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। আবার ওইদিনই অনেকে পুরোহিত পদত্যাগ করেন সংগঠন থেকে। একই সঙ্গে এক হাজার নয়, তিন হাজার টাকার দাবিতে তারা সোচ্চার হন। তড়িঘড়ি বুধবার ওই সংগঠনের নেতৃত্বরা সভা ডেকে সকলের সামনে সেদিনের ঘটনার ভুল স্বীকার করে নেন এবং তাদের গড়ে তোলা সংগঠন ভেঙ্গে দেওয়া হয়। প্রায় ২০০ পুরোহিতের উপস্থিতিতে রাজনীতি নিরপেক্ষ পুরোহিত কল্যাণ পরিষদ নামে আলাদা সংগঠন গড়ে তোলা হয়। অন্যদিকে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বিজেপির তরফে পুরোহিতদের নিয়ে পাল্টা সভা ডাকা হয়েছে। তাদের প্রধান দাবি, এক হাজার টাকা নয়, তিন হাজার টাকা পুরোহিত ভাতা চাই এবং পুরোহিতেরা কোনো শ্রমিক নন।

জেলা আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি তথা রায়গঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকারের বলেন, পুরোহিতেরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে তাদের আইএনটিটিইউসি-তে নেওয়া হয়েছিল। আমরা জোর করে তৃণমূলে নিয়ে আসিনি। সেদিনের সংগঠন ভেঙ্গে দিয়ে বুধবার তারা আবার নতুন সংগঠন তৈরি করেছেন সেজন্য অভিনন্দন। আমরা পুরোহিত সমাজের পাশে সব সময় আছি এবং থাকবো।

- Advertisement -

নিখিল চক্রবর্তী নামে এক পুরোহিত জানান, পুরোহিতেরা সেবায়ত। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের বাড়িতে তারা পুজোর্চনা করেন। সমাজের মানুষ তাদের অন্য চোখে দেখেন। তারা যদি নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শেষ পর্যন্ত শ্রমিক সংগঠনের পতাকার তলায় সামিল হন তাহলে আর কিছু বলার থাকে না। কারণ, আমরা তো শ্রমিক নই। তিনি বলেন, আজ পুরোহিতেরা সেদিনের ভুল বুঝতে পেরেই সমস্ত রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা সংগঠন তৈরি করেছে। খুবই ভালো লাগলো। কারণ, এক হাজার টাকার ভাতার জন্য নিজেদের বিক্রি করা যাবে না। আমাদের প্রত্যেকের দাবি একটাই থাকা উচিৎ, তিন হাজার টাকা ভাতা দিতে হবে। আমাদের নিয়ে কাউকেই আমরা রাজনীতি করতে দেব না। পুরোহিত কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হীরক মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরোহিতেরা তৃণমূলও নয়, বিজেপিও নয়। আবার সিপিএমও নয়। যারা আমাদের নিয়ে রাজনীতি করতে চায় তারা আমাদের ভালো চান না।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিত লাহিড়ী বলেন, পুরোহিত আর শ্রমিক এক হতে পারে না। পুরোহিতেরা যে শ্রম দেন তার সঙ্গে একজন শ্রমিকের শ্রমের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এক হাজার টাকার ভাতার টোপ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পুরোহিতদের শ্রমিক সংগঠনের পতাকার তলায় এনে পুরোহিত সমাজকে অপমান করেছে। তাই আগামী ২৬ তারিখ পুরোহিতদের নিয়ে আমরা সভা ডেকেছি। ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের যদি আড়াই হাজার টাকা ভাতা হয়ে থাকে তবে পুরোহিতদের কেন তিন হাজার টাকা ভাতা হবে না। এদিকে পুরোহিতদের নিয়ে দুই পক্ষ দল ভারী করার চেষ্টা করায় অনেকেই নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন।

নবগঠিত পুরোহিত কল্যাণ পরিষদের সভাপতি তথা প্রাক্তন শিক্ষক রতন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের সংগঠন কোনো শ্রমিক সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের ব্যানারে অন্তভূক্ত নয়। সমাজের সর্বস্তরের পুরোহিতদের জন্য এই সংগঠন। মুখ্যমন্ত্রী পুরোহিত ভাতা চালু করলেও যারা সারা বছর পুজো পাঠ করেন তাদেরই নেওয়া উচিৎ। আগামীদিনে ভাতা পাবার যোগ্য পুরোহিতদের তালিকা সকলে বসে ঠিক করব।