টেরাকোটা শিল্পে মন্দায় কুনোরের শিল্পীরা হতাশ

দীপঙ্কর মিত্র, কালিয়াগঞ্জ : প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তাই দেশ হোক কী রাজ্য, লকডাউন তোলা নিয়ে বিশেষ আশার আলো দেখা যাচ্ছে কোনওখানেই। এমনিতেই মাস দেড়েকেরও বেশি সময় ধরে চলা লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। পাশাপাশি বড় শিল্পগুলির মতো এর প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পেও। বাদ যায়নি কালিয়াগঞ্জের কুনোরের টেরাকোটা শিল্পও। এখানকার টেরাকোটার শিল্পকর্ম বিশ্ব বিখ্যাত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি হয় এখানে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাও বন্ধ। ফলে জীবন ও জীবিকা নিয়ে সংকটে পড়েছেন এখানকার প্রায় ৫০ জন শিল্পী। সকলেই শুধু এখন তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি সাহায্যের আশায়। শিল্পীদের দাবি, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই মুহূর্তেই প্রয়োজন সরকারি সাহায্য।

টেরাকোটা শিল্পী কেশব রায় জানান, লকডাউনের ফলে আমাদের তৈরী শিল্পসামগ্রী বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ৫০ জন মতো শিল্পী আমরা এখন সম্পূর্ণ ঘরে বসা। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা এবং রাজ্য সরকারের দেওয়া র‌্যাশন ছাড়া আর কোনও সাহায্যই পাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন, আমাদের তৈরি টেরাকোটার গণেশ, ফুলদানি, চায়ের কাপ-প্লেট, কফি কাপ, ফুলদানি শিলিগুড়ি, কলকাতা, হলদিয়া, মেদিনীপুর, বর্ধমান ছাড়াও আমেরিকা, জাপান, লন্ডনে যায়। এছাড়া কলকাতা, শিলিগুড়িতে রাজ্য সরকার আয়োজিত হস্তশিল্প মেলাগুলিতেও আমরা আমাদের জিনিস নিয়ে যাই। বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার পেয়ে জিনিস তৈরিও করে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন সেগুলি কারখানাতেই পড়ে রয়েছে। যানবাহন বন্ধ থাকার জন্য কিছুই পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে আমরা বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছি।

- Advertisement -

আরেক প্রবীণ শিল্পী আশিস রায় বলেন, গত দশ বছর ধরে আমি মহিলাদের জন্য টেরাকোটার গয়না তৈরি করছি। স্ত্রী ও সন্তানরাও আমায় এই কাজে সাহায্য করে। সেসব গয়না হায়দরাবাদ, মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটে যায়। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে আমার তৈরি কানের দুল, মালা, চুড়ি দুবাইতেও রপ্তানি হয়। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের ফলে সেসবই বন্ধ। জানি না আমাদের ভবিষ্যৎ কী। তবে শিল্পীরা সাফ জানান, দেশের স্বার্থে লকডাউন মেনে চলতেই হবে। কারণ, লকডাউনের কোনও বিকল্প আর এই মুহূর্তে নেই। যদিও এই শিল্পকে বাঁচাতে আগামীতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। উত্তর দিনাজপুর জেলা শিল্প অধিকর্তা সুনীল সরকার বলেন, সরকার শিল্পীদের কথা নিশ্চয় ভাববে। আমরা শিল্প ও শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।