নাগরোটা এনকাউন্টার: সুড়ঙ্গ পথে ভারতে ঢুকেছিল চার জইশ জঙ্গি

1392

শ্রীনগর: কাশ্মীরে নাশকতা চালানোর জন্য বেশ আঁটঘাঁট বেধেই এসেছিল জঙ্গিরা। নাগরোটা এনকাউন্টারে নিহত চার পাক জঙ্গি সম্ভবত সুড়ঙ্গ তৈরি করেই ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল৷ ঘটনার তিনদিন পর বিএসএফ এবং কাশ্মীর পুলিশ সাম্বা সেক্টরে একটি সদ্য খোঁড়া সুড়ঙ্গের খোঁজ পেয়েছে৷ পুলিসের ডিজি দিলবাগ সিং জানিয়েছেন, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই চার জয়েশ জঙ্গি ভারতে প্রবেশ করেছিল।

বিএসএফ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নতুন এই সুড়ঙ্গটির মুখ থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ১৬০ মিটার৷ আর ভারতের সীমান্ত বেড়ার থেকে দূরত্ব মাত্র ৭০ মিটার৷ মাটি থেকে ২৫ মিটার গভীরে সুড়ঙ্গটি খোঁড়া হয়৷ বিএসএফ-এর জম্মুর আইজি এনএস জামওয়াল বলেছেন, ‘নাগরোটায় এনকাউন্টারে নিহত জঙ্গিরা এই ৩০ থেকে ৪০ মিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গটি ব্যবহার করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে৷ কারণ এটি একেবারে নতুন খোঁড়া হয়েছে৷ আমাদের অনুমান, সুড়ঙ্গ পথে ভারতে প্রবেশের পরে কোনও গাইড তাদের হাইওয়ে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল৷’

- Advertisement -

সূত্রের খবর, জঙ্গিদের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গটি তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট চওড়া৷ সুড়ঙ্গের মুখে সবুজ রংয়ের বালির বস্তা পাওয়া গিয়েছে৷ সেগুলির গায়ে উর্দুতে কিছু লেখা ছিল৷ একটি বস্তার গায়ে ইংরেজিতে করাচি, পাকিস্তান লেখা রয়েছে৷ জম্মুর আইজি মুকেশ সিং জানিয়েছেন, নাগরোটা কাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল নজরদারির সূত্রেই সাম্বা সেক্টরে পৌঁছন তাঁরা৷ এর পর আরও তদন্ত চালিয়ে এই সুড়ঙ্গের খোঁজ মেলে৷ নিহত চার জইশ জঙ্গির কাছ থেকে মোবাইল ফোন, জিপিএস এবং রেডিও সেট উদ্ধার করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী৷ সেগুলি থেকে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখেই তারা কোন পথে অনুপ্রবেশ করেছে তার খোঁজ পান তদন্তকারীরা৷

জঙ্গিদের জিপিএস-এ পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে আরও জানা গিয়েছে, সম্ভবত ১৮ নভেম্বর রাত ২টো নাগাদ ভারতে প্রবেশ করে চার জঙ্গি৷ ওই দিন চাঁদ না ওঠায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই ভারতে প্রবেশ করে জঙ্গিরা৷

গত বৃহস্পতিবার ভোরে নাগরোটায় টোল প্লাজায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইতে মারা যায় চার জইশ জঙ্গি৷ তল্লাশির জন্য চালের বস্তা বোঝাই লরিটি থামাতেই চালক পালিয়ে যায়৷ লরির ভিতরে লুকিয়ে থাকা চার জঙ্গি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে৷ নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাবে চার জইশ জঙ্গিরই মৃত্যু হয়৷