থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্ত নাতির জন্য পথে নামলেন দাদু

310

কালিয়াগঞ্জ : কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর অঞ্চলের ফরিদপুর সংসদ এলাকার দিনমজুর বাসিন্দা আসিমুদ্দিন মিয়াঁ। ছেলে ও বউমা কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকে। তাই একমাত্র নাতি মহরম আলি আর স্ত্রীকে নিয়ে বাস আসিমুদ্দিন মিয়াঁর। গ্রামের বাড়িতে দাদু, দিদার কাছেই মানুষ চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া মহরম। তবে প্রতিমাসে একবার করে রক্ত লাগে মহরমের। কারণ সে জন্মের এক বছর পর থেকেই থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্ত। লকডাউনের ফলে ছেলের চিকিৎসার জন্য বাড়িতে আসার ইচ্ছা থাকলেও তা পেরে উঠছেন না মহরমের বাবা। এদিকে লকডাউনের ফলে অনেকদিন ধরেই রায়গঞ্জ ব্লাড ব্যাংকে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সমাজসেবী সংগঠনগুলিও এই মুহূর্তে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হলেও ব্লাড ব্যাংকে রক্তের চাহিদার তুলনায় তা অনেকটাই কম। সেই কারণে মহরমের জন্য রক্তের সন্ধানে দাদু আসিমুদ্দিন মিযাঁ মঙ্গলবার কালিয়াগঞ্জ শহরের রাস্তায় নামেন।

আসিমুদ্দিন বলেন, ‘দিনমজুরের কাজ করে কোনও রকমে স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে দিন কাটাই। নাতির থ্যালাসিমিয়া রয়েছে। ছেলে, ছেলের বউ বাইরে থাকায় মাসে মাসে নাতির জন্য আমাকেই রক্ত জোগাড় করতে হয়। আমার নাতির রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। চলতি মাসের গত ২১তারিখ নাতিকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেছিলাম। রক্ত না থাকায় নাতিকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। এরপর রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে এই মাসের ২৯ তারিখ সময় দেয়। তবে রক্ত নিতে আসার সময় অবশ্যই একজন রক্তদাতাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেছে। করোনার ফলে এই পরিস্থিতিতে কোনও রক্তদাতা পাচ্ছি না। তাই নাতির জন্য শহরের রাস্তায় এসে মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমার নাতির অবস্থা সংকটজনক। কোনও সহৃদয় ব্যক্তি যদি রক্ত দিয়ে আমার নাতির প্রাণরক্ষা করেন তাহলে আমার তাঁকে কিছু দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই, তবে উপরওয়ালার কাছে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের কুশল প্রার্থনা করব। কালিয়াগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা রক্তদাতা সন্তোষ ব্যাঙ্গানী বলেন, করোনার কারণে এই সময় রক্তদান শিবির বন্ধ আছে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সংগঠনের ছেলেরা এগিয়ে এসে সরাসরি রায়গঞ্জ ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্ত দিয়ে আসছে। আমার তরফে যতদূর সম্ভব চেষ্টা করব বাচ্চাটিকে যাতে রক্ত দিয়ে তার প্রাণরক্ষা করা যায়। তবে আমি আশা করব, প্রশাসনের মাধ্যমে এবিষয়ে মানুষকে যাতে সচেতন করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও যাতে সমস্ত রকম সাবধানতা অবলম্বন করে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা দরকার। বিশেষ করে জেলার থ্যালাসিমিয়ায় আক্রান্তদের কথা মাথায় রেখে ছোট ছোট রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হলে অন্তত তাঁরা উপকৃত হবেন।’ লায়ন্স ক্লাবের এই জোনের দায়িত্বে থাকা সুদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘রক্তদান শিবির বর্তমানে আগের তুলনায় এখন অনেক কম হচ্ছে। এখন একটি শিবিরে ৫০ জনের বেশি রক্তদান করা যাচ্ছে না। এরফলে জেলা ব্লাড ব্যাংকে রক্তের জোগান অনেক কম থাকছে। এই পরিস্থিতিতেও আমরা চারটি রক্তদান শিবিরের আযোজন করেছি। বাচ্চাটিকে রক্ত দেওয়ার বিষয়ে অবশ্যই অনেকে এগিয়ে আসবেন।’ সমাজসেবী অয়ন দত্ত বাচ্চাটিকে যাতে রক্ত দেওয়া যায় তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গৌরাঙ্গ চৌহান বলেন, ‘আমার মতো আরও অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা থ্যালাসিমিয়া আক্রান্ত এই বাচ্চাটিকে রক্তদানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।’

- Advertisement -

অনির্বাণ চক্রবর্তী