যে কারণে বীরনগর বাজারের নাম হল বউবাজার

75

রায়গঞ্জ:  প্রায় ৫০ বছর আগের ঘটনা। শীতের সন্ধ্যায় কয়েকজন ছাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুলিক নদীর পাড়ের জনপদে বেড়াতে আসে। সেদিন ছিল সাধারণতন্ত্র দিবস। বীরনগর এলাকায় সরু গলির ভেতরের কাঁচা রাস্তা ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় ছাত্রদের কানে ভেসে আসছিল গমগম আওয়াজ। কৌতুহল বারে যুবকদের। নজরে পড়ে প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা। একটু এগিয়ে যেতেই দেখে কুপির টিমটিমে আলোতে হরেকরকম জিনিস সাজিয়ে দোকানিরা বসেছে। বিকিকিনি চলছে। আনাজ থেকে চানাচুর, পাপড় ভাজা, জিলিপি, ভাজা চপ, বেলুন, কলা, কেশর রয়েছে সবই। দোকানিরা সবাই মহিলা। কিনছেন যারা তাঁরাও মহিলা। গোটা বাজারে কোনও পুরুষের দেখা নেই। যুবকদের মধ্যে একজন হঠাৎ করে বলেন এটা কি ‘বউদের বাজার’। সেই থেকেই অবিভক্ত পশ্চিম দিনাজপুর রায়গঞ্জ পুরশহরের বীরনগরের সন্ধ্যাকালীন বাজার বউবাজার নামে পরিচিত।

প্রতিদিন রায়গঞ্জের নানা প্রান্তের মহিলারা পাড়ার ভিতরে বসতি এলাকার মাঝখানে একফালি খোলা জায়গায় পসরা সাজিয়ে বসেতেন। সারাদিন সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম সেরে ফেরার পথে বধু কিংবা তরুণীরা এখানে ভিড় করতেন। তাদের বেশিরভাগ সবজি কিনে নিতেন। কিন্তু পুরুষদের দেখা যেত না। কিছুদিনের মধ্যে বাজারের নাম ছড়িয়ে পড়তে লাগল। বীরনগর ছাপিয়ে মফস্বল শহরের অন্যান্য পাড়ায়। ভিন পাড়ার মহিলারাও সন্ধ্যা ভ্রমণের ফাঁকে বউ বাজারে সবজি কিনতে ভিড় করতে শুরু করেন। ঠাকুমার হাত ধরে অনেক দিন সন্ধ্যায় ওই বাজারে এসেছেন পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক দীপাঞ্জন সরকার। তিনি জানান, রায়গঞ্জের বিশিষ্ট সাহিত্যিক বৃন্দাবন বাগচি, বঙ্গরত্ন প্রাপক প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সত্যরঞ্জন দাস সহ শহরের বিদ্বজনদের উদ্যোগে বাজার ফুলে ফেঁপে উঠেছিল।

- Advertisement -

বীরনগরের বাসিন্দা শিবানী সাহা বলেন, ‘আশির দশকের গোড়ার দিকেও ওই বাজারে মা ঠাকুমারা নিয়মিত সবজি কিনতে যেতেন। এখন বীরনগর উন্নয়ন সমিতির অধীনে বউবাজার। বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে শিশুদের যোগ ব্যায়াম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাজারের অন্য প্রান্তে কমিউনিটি হল তৈরি হয়েছে। বাকি এক ফালি জমিতে ফিবছর জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করা হয়। এভাবেই একসময়ের বউবাজারের অস্তিত্ব হারিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস জানান, বউবাজারের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম যেন অতীতকে জানতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।