রায়গঞ্জ মেডিকেলে দুষ্কৃতীদের দাপট

রায়গঞ্জ : সন্ধ্যা নামতেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীর পরিবারের সদস্যরের অভিযোগ, রাতের বেলা চুরি-ছিনতাই এর পাশাপাশি তোলাবাজির ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটে চলেছে। যদিও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। আরও অভিযোগ, হাসপাতালে রাতের বেলা দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। একই সঙ্গে নেশাখোরদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ মানুষ। সবকিছু দেখেও হাসপাতালে কর্মী, চিকিৎসকেরা প্রতিবাদ করার সাহস করেন না। তাদের অভিযোগ, সমাজবিরোধীদের ভয়ে সবাইকে সিঁটিয়ে থাকতে হয়।

রাতের বেলা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিবারের লোকেরা বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। অভিযোগ, রাতে এখানে তাদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ ক্যাম্প চেয়ে বারবার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ক্যাম্প না থাকার সুযোগে সমাজবিরোধীরা হাসপাতাল চত্বরে নানা অসামাজিক কাজকর্ম দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে। তোলাবাজদের টাকা না দিলে রোগীর বাড়ির লোকেদের মারধরের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ডিএসপি প্রসাদ প্রধান জানিয়েছেন, হাসপাতাল চত্বরে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে।

- Advertisement -

দিন কয়েক আগে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক প্রসূতির আত্মীয় ইটাহারের বাসিন্দা আজগর আলিকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় অ্যাম্বুল্যান্স চালকেরা। অভিযোগ, এক অ্যাম্বুল্যান্স চালক অনৈতিকভাবে মোটা টাকা দাবি করার প্রতিবাদ করায় আজগর আলিকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আক্রান্তরা অভিযোগ জানালেও পুলিশ হামলাকারীদের ধরতে পারেনি। হাসপাতালে কর্মীদের অভিযোগ, অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের একাংশের দাদাগিরি এতটাই যে, ওদের দাবি মতো তোলা না দিলে রোগীর পরিবারের লোকেদের ভয় দেখানো হয়। অনেকে ভয়ে ওদের দাবি মিটিয়ে মানে মানে চলে যান। রাতে হাসপাতাল চত্বরে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের একাংশ রোগীর বাড়ির লোকেদের কাছে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় টাকা দাবি করেন। অনেকেই ভয়ে কমবেশি টাকা দিয়ে দেন। তাছাড়া কিছুদিন হল বহিরাগত ট্রলিম্যানরা দিনের বেলা কিছুটা সমঝে চললেও রাতের বেলা দাদাগিরি করেন। ওয়ার্ডের রোগী পৌঁছে দিতে ২০০-৫০০ টাকা পরিবারের লোকেদের কাছে আদায় করছেন। দালালদের দাদাগিরিতে রোগীর পরিবারের লোকেরা অতিষ্ঠ হলেও দেখার কেউ নেই। আক্রান্তরা পুলিশে অভিযোগ জানালেও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশ সকলেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রভাবশালীদের একাংশের মতে দিনের পর দিন হাসপাতালে অনৈতিক কাজকর্ম চলছে। দিনে দালালদের দাপাদাপি রাতে অনেকগুণ বেড়ে যায়। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপকুমার পাল জানিয়েছেন, বহিরাগত দুষ্কৃতীরা যাতে হাসপাতাল চত্বরে আসতে না পারে, সেজন্য হাসপাতাল চত্বরে একটি পুলিশ ক্যাম্পের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।