করোনা পালটেছে জীবন, কাজ হারিয়ে সবজি বেচছেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট

139

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : হিসেবের অঙ্ক মিললেও জীবনের অঙ্ক যে সবসময় মিলে না, তার প্রমাণ রায়গঞ্জের তারক। বেসরকারি অফিসে হিসেবরক্ষকের কাজ করতেন তিনি। অফিসের অনেক জটিল অঙ্কই মিলিয়েছেন। কিন্তু করোনা ও লকডাউন পালটে দিয়েছে তাঁর জীবনেরই অঙ্ক। করোনা আবহে বন্ধ অফিস। মিলছে না বেতন। এদিকে বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা। রোজগেরে বলতে আর কেউ নেই। অগত্যা সংসার টানতে সবজি ফেরি করছেন তারক। সকাল হতেই ভ্যানে সবজির পসরা সাজিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন শহরের বিভিন্ন এলাকায়।

রায়গঞ্জের দেবীনগরের বাসিন্দা তারকনাথ দত্ত। বয়স ৩০। পারিবারিক প্রতিকূলতার মধ্যে স্নাতক পাশ করেছেন। তারপর কম্পিউটার কোর্স শিখে অ্যাকাউন্টট্যান্ট হিসাবে চার বছর আগে কাজ পান রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি সংস্থায়। গতবছরের মার্চ মাসের আগে পর্যন্ত সব ঠিক চলছিল। কিন্তু করোনা ও লকডাউন ঘোষণা হতেই সরকারি নিয়মে বন্ধ হয়ে যায় অফিস। অফিস বন্ধ থাকায় বেতন পাচ্ছেন না তারক। এদিকে কাজ না করে বাড়িতে বসে থাকারও উপায় নেই। কারণ বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা। বাবা দিলীপ দত্ত মেলায় ও হাটে জিলিপি বিক্রি করতেন। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর সেই কাজ বন্ধ। অগত্যা বাড়ির একমাত্র রোজগেরে তারক সংসার টানতে চক্ষুলজ্জা ভুলে নেমে পড়েছেন সবজি বিক্রি করতে। প্রতিদিন ভোর হতেই ঘুম থেকে উঠে পাইকারি বাজারে গিয়ে সবজি কেনেন তারক। তারপর বাড়িতে গিয়ে ভ্যানে সবজি সাজিয়ে সকাল ৭ টায় বেরিয়ে এপাড়া থেকে ওপাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যেটুকু টাকা পাচ্ছেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট তারক। তাঁর কথায়, লকডাউনে কোম্পানির কাজ বন্ধ রয়েছে। মালিক বেতন দিতে পারছেন না। বাড়িতে বাবার শরীরও ভালো নেই যে কোনও কাজ করবে। পেটের জ্বালায় তাই সবজি বিক্রি করছি। জানি না কবে সব কিছু স্বাভাবিক হবে। পরিবারকে বাঁচাতে যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে, এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কোনও উপায় তো নেই। তাই আগে বাঁচতে হবে।  তারক জানান, সংকটের সময় লোকলজ্জার কথা না ভেবে লাভ নেই। সৎপথে উপার্জন করছি, এটাই আমার কাছে আনন্দের।

- Advertisement -

তারকের এই লড়াইয়ে গর্বিত তাঁর বাবা দিলীপবাবু। তাঁর বক্তব্য, তারক আছে বলেই আমরা বেঁচে থাকার ভরসা পাচ্ছি। লকডাউনে ওর অফিসের কাজ বন্ধ। সংসার টানতে সবকিছু ভুলে ও সবজি বিক্রি করছে। জানি খুব কষ্ট হচ্ছে ওর। কিন্ত সৎপথে খেটে খাচ্ছে, এটাই ভালো লাগছে।