আগাছায় ভরা কিষাণমান্ডি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেই প্রশাসনের  

225

তুফানগঞ্জ: তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের ধলপল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীবাড়ি এলাকায় কৃষকদের স্বার্থে গড়ে উঠেছিল কৃষক বাজার। দীর্ঘ কয়েক মাস থেকে আগাছায় ভরে গিয়েছে কৃষক বাজারের গোটা চত্বর। বর্তমানে কৃষক বাজার এর প্রয়োজন না থাকায় ও সেখান থেকে কোনও আয় না হওয়ায় আগাছা পরিষ্কারের জন্য কোনও অর্থ ব্যয় করতে চাইছেন না প্রশাসন।

কৃষকদের স্বার্থে গোটা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ব্লকে গড়ে উঠেছিল কৃষক বাজার। সেই জন্য ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তুফানগঞ্জ কৃষক বাজার তৈরির কাজ শুরু হয়। কাজটি শেষ হয় ২৩ অগাস্ট ২০১৪ সালে। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি কৃষক বাজার উদ্বোধন করা হয়েছিল। ছয় একর জমির উপর গড়ে উঠলেও এর ব্যবহার যোগ্য জমির পরিমাণ দুই একর।

- Advertisement -

কৃষক বাজার তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। চাষিরা যাতে নিজের এলাকাতেই ফসল বিক্রি করতে পারেন এবং লাভের মুখ দেখেন তার জন্য শাসক দল ক্ষমতায় এসেই প্রতিটি ব্লকে একটি করে কৃষক বাজার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তুফানগঞ্জ কালীবাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির জমিতেই গড়ে উঠেছিল কৃষক বাজার। কিন্তু বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে এই কৃষক বাজার এই নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। সরকারি কোটি কোটি টাকা খরচ করে গড়ে ওঠা এই কৃষক বাজার চত্বর নিয়মিত সাফাই হয় না, সারা বছরই আগাছায় ভরে থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই কৃষক বাজার নিয়ে বিরোধী দলের নেতারাও নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রতন শীল বলেন, ‘প্রশাসনের গাফিলতি ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে কৃষকদের স্বপ্নের কৃষক বাজার মুখ থুবড়ে পড়েছে। গোটা চত্বর ঘন আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। পোকা মাকড়ের বাসায় পরিণত হয়েছে কৃষক বাজার। প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। সারা ভারত কৃষক সভার জেলা সম্পাদক তথা সিপিআইএম এর প্রাক্তন বিধায়ক তমসের আলী বলেন, ‘শাসক দলের চমক হল কৃষক বাজার। এই কৃষক বাজার বাস্তবে কৃষকের কোনও কাজে লাগে না। তাই বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে কৃষক বাজার।

অন্যদিকে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি পুষ্পেন সরকার বলেন, ‘কৃষক বাজার কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হলেও সরকারের রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। কৃষকদের বোকা বানানের জন্য এই কৃষকবাজার তৈরি করা হয়েছে। তুফানগঞ্জ নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অখিল দাস বলেন, ‘তুফানগঞ্জ কৃষক বাজার পোকামাকড়ের আতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের চূড়ান্ত গাফিলতির কারণেই আজ এমন দশা কৃষক বাজারের। দ্রুত আগাছা পরিষ্কার করা উচিত।

অন্যদিকে তৃণমূল কিষাণ মজদুর সংগঠনের তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের সভাপতি গোলাম মোস্তাফা বলেন, ‘কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিজের এলাকায় সঠিক দামে বিক্রি করার জন্য রাজ্য সরকার প্রতিটি ব্লকে একটি করে কৃষক বাজার তৈরি করেছিল। কৃষকরা এতে উপকৃত হচ্ছে। লকডাউন এর কারণে কৃষক বাজার বন্ধ থাকায় আগাছা পরিষ্কার করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়ত আগাছাগুলি পরিষ্কার করা হবে।‘ তুফানগঞ্জ নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির জেলা সম্পাদক দেবাঞ্জন পালিত বলেন, ‘বর্তমানে কৃষক বাজার থেকে কোনও আয় না হওয়ায় আগাছা পরিষ্কার করা হচ্ছে না।