জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ, নোটিশ জারি করতে চলেছে প্রশাসন

87

রায়গঞ্জ: ফের আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জলাভূমি ভরাট চলছে রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায়। অবৈধ উপায়ে নদী ভরাটের কাজে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রায়গঞ্জ শহরের নেতাজি পল্লী এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকা সহ শিল্পী নগর, দেবীনগর, শক্তিনগর ও শহরতলি এলাকায় একের পর এক জলাশয় ভরাট চলছে। অন্যদিকে, রায়গঞ্জ পুর এলাকার উকিলপাড়ার পীরপুকুরের বিশাল জলাশয়ের চর্তুদিকে টিনের বেড়া লাগিয়ে গোপনে ট্রাক বোঝাই মাটি ফেলে তা ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে।

বেআইনিভাবে জলাভূমি ভরাটের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রায়গঞ্জ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও রকম জলাভূমি ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি। পরিবেশ বাঁচাতে বেআইনি ভরাট রুখতে হবে। অবৈধভাবে জলাশয় বুজিয়ে ফেলার অভিযোগে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। প্রাথমিক তদন্তে রায়গঞ্জের প্রায় ১৫টি এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর জারি করা হবে নোটিশ জেলা ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে। অভিযোগ, রায়গঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অন্তত ২২টি জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে। দেবীনগরের রামকৃষ্ণপল্লী, কসবার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের দুই ধারের জলাশয়গুলি ও পূর্ব কলেজপাড়া চত্বরের জলাশয়গুলি ভরাট হয়েছে।

- Advertisement -

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক কর্মী বলেন, ‘একাধিক জলাশয় এলাকাকে রেকর্ডে অবৈধভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।’ অভিযোগ প্রমাণ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন রায়গঞ্জ ব্লকের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক প্রদীপ গিরি। তিনি বলেন, ‘১৯৫৫-৫৬ সালে আরএস(রিভিশন সিলেটমেন্ট) রেকর্ডের কাজ হয়েছে। তাতে জমির রেকর্ড অনধিকার পরিবর্তন হলেও এখন পার পাবে না বেআইনি ভরাটকারীরা।’ রায়গঞ্জের পরিবেশপ্রেমী সঞ্জিত গোস্বামী বলেন, ‘মানুষের ভালো থাকার সঙ্গে জলাভূমি সংরক্ষণ প্রক্রিয়াটি জড়িত। এটা মানুষের উপযোগী সুস্থ পরিবেশের জন্য দরকার। এছাড়াও জলাধারের মাধ্যমে বৃষ্টির অতিরিক্ত জল ঢুকে ভূগর্ভের জল ভাণ্ডার মজবুত করে।