অ্যাম্বুল্যান্স আসতে দেরি, বাড়িতেই সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি

64

রায়গঞ্জ: অ্যাম্বুল্যান্স দেরিতে আসায় বাড়িতেই সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ইটাহার থানার মারনাই গ্রামে। পরিবারের দাবি, জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের হেল্পলাইনে ফোন করা হলেও অ্যাম্বুল্যান্স আসেনি। জানা গিয়েছে, বছর একুশের মুঞ্জিলা খাতুন নামে ওই গর্ভবতী মহিলা সকাল থেকেই প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকে। অ্যাম্বুল্যান্স বারবার ফোন করা হলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। যার ফলে বাড়িতেই প্রসব করতে হল। সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টির কারণে কোনও টোটোও পাওয়া যায়নি। ঘণ্টা দুয়েক পর বাড়িতে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছোলে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই অ্যাম্বুল্যান্স ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এরপর ওই প্রসূতি এবং সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে যাওয়া হয় ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতালে। সদ্যজাতর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। এরপর রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ওই শিশু রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন। এদিকে ওই প্রসূতিকে ভর্তি করা হয়েছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে। অ্যাম্বুল্যান্স চালকের বক্তব্য, সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টি হয়। সেকারণে ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মারনাই গ্রামে যাওয়া হয়নি। মারনাই থেকে রোগীর বাড়ি প্রায় ১০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সেকারণে সময় বেশি লেগেছে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘১০২ অ্যাম্বুল্যান্স নম্বরটি স্বাস্থ্য ভবন থেকে মনিটরিং করা হয়। ফলে যা বলার স্বাস্থ্যদপ্তরই বলবে।’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘বাড়িতে কন্যা সন্তান প্রসবের পরই অ্যাম্বুল্যান্স গিয়ে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে। তাদের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যে পরিমাণ চাহিদা সেই পরিমাণ অ্যাম্বুল্যান্স নেই। সেই কারণেই যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। যদিও অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।’

ওই প্রসূতির স্বামী সোলেমান হক বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে আমার স্ত্রী প্রসব বেদনা নিয়ে কাতরাতে শুরু করেন। এরপর গ্রামের দাইমা ডেকে বাড়িতেই প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। ঘন্টা দুয়েক পর আসে অ্যাম্বুল্যান্স এরপর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আমার স্ত্রী ও কন্যা সন্তানকে গাইনি বিভাগে ভর্তি করি। কন্যাসন্তানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এসএনসিইউ বিভাগে রাখা হয়েছে।’

ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মারফত খবর পেয়েছি। কেন ১০২ ফোন করে সঠিক সময়ে অ্যাম্বুল্যান্স আসেনি সেই ব্যাপারে স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।’ যদিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। গ্রাম থেকে হাসপাতালে প্রসূতিকে নিয়ে যেতে গেলে অ্যাম্বুল্যান্স দরকার। কিন্তু সময়মত অ্যাম্বুল্যান্স না আসায় প্রসূতিকে নিয়ে প্রবল সমস্যায় পড়তে হয় পরিবার পরিজনদের।