লরিচালককে বগলদাবা করে ছুটল অ্যাম্বুল্যান্স, প্রাণ গেল লরিচালকের

445

পুরাতন মালদা: রাস্তায় ওভারটেক করা নিয়ে ঝামেলা। আর তার জেরে এক লরিচালককে বগলদাবা করে অ্যাম্বুল্যান্সে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেলেন অ্যাম্বুল্যান্সচালক। ঘটনায় প্রাণ হারাল ওই লরিচালক। শুক্রবার সকালে এমনই এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষি থাকলেন আটমাইলের বাসিন্দারা। মৃত ওই লরিচালকের নাম ঊমাশংকর যাদব (৫২)। তিনি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। ঘটনার পরই পালিয়ে যায় অ্যাম্বুল্যান্সটি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মালদা থানার পুলিশ।

শুক্রবার সাপ্তাহিক হাট বসেছিল পুরাতন মালদার ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের আট মাইলে। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারেই বসে ওই হাট। স্বভাবতই এদিন সকাল থেকেই ওই এলাকায় খানিক যানজট ছিল। সকাল ছ’টা নাগাদ আট মাইলের কাছে ওভারটেক করা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে এক লরিচালকের বচসা বাধে। অ্যাম্বুল্যান্সটি চাঁচোল থেকে বহরমপুর যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। ভুট্টাবোঝাই লরিটি কলকাতার দিকে যাচ্ছিল।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক লরিচালককে মারধোর করতে উদ্যত হয় এবং তার লরির চাবি কেড়ে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে উঠে পালাতে থাকে। ওই সময়ে লরি চালক চাবিটি ফেরত পাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছে গেলে লরি চালককে বগলদাবা করেই অ্যাম্বুলেন্স ছুটিয়ে দেন চালক। ওই অবস্থাতেই জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় ২০০ মিটার লরি চালককে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যান অ্যাম্বুলেন্স চালক। এমন ঘটনায় মাথা, কোমর ও পায়ে গুরুতর চোট পান পরিচালক। তিনি চিৎকার করলেও অ্যাম্বুলেন্স চালক তাকে ছাড়েনি। অবশেষে লরিচালকের দেহ নিথর হয়ে গেলে তাঁকে সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি।

হাটের মানুষজন ছুটে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে লরি চালকের দেহ। খবর পেয়ে মালদা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একটি ভুটভুটিতে করে তাকে পাঠানো হয় মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরেশ রাজবংশী নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘সকালে হাটে সবজি বিক্রি করতে এসেছিলাম। হঠাৎ করেই চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পাই। দেখি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার একজন লোককে চেপে ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। গাড়িটি খুব জোরে চলছিল। আমরা ছুটে যেতে যেতেই লরি চালককে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি। মাথা থেকে রক্তপাত হচ্ছিল লরিছালকের। মনে হয় ওইখানেই মারা গিয়েছিল সে।’

শ্যামল রায় নামে অপর একজন বলেন, ‘এটা কোনও দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। খুন করার জন্যই ওই লরিচালককে ওইভাবে চলন্ত গাড়িতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ঘটনা দেখে আমরা আতঙ্কে শিউরে উঠেছি।’ লরিচালককে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় অ্যাম্বুল্যান্সটি। পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সচালকের খোঁজ শুরু করেছে। লরিচালক ঊমাশংকর যাদব উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর জেলার বীরপুরের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে এগোতে চাইছে পুলিশ।