বিচার-বিভাগীয় হেপাজতে মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত

নয়াদিল্লি: প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মৃত বিজেপি কর্মী ও সমর্থক পরিমল সাহার মৃত্যু নিয়ে রাজ্য সরকার-কে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, ইন্দু মালহোত্রা ও কে এম জোসেফের ডিভিশন বেঞ্চ। চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করে জেল সুপারের রিপোর্ট হলফনামা আকারে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। পরিমলচন্দ্র সাহা বনাম রাজ্যের এই মামলার রায়কে আপাতত নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবার।

উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত জানুয়ারি মাসে বেহালা ঠাকুরপুকুরের বাছারপাড়ায় অশোক স্মৃতি সংঘ আয়োজিত একটি পিকনিকে জনা ১০-১২ স্থানীয় বিজেপি সমর্থকদের হামলার ঘটনা নিয়ে। ওই ক্লাবের সদস্যরা সকলেই তৃণমূলকর্মী। হামলাকারীদের দলে ছিলেন ৭১ বর্ষীয় পরিমল সাহা। সেই সংঘর্ষে ক্লাব সদস্য ভাস্কর ব্যানার্জি নামের এক যুবক গুরুতর আহত ও পরে মারা যান। অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে জারি হয় ফৌজদারী মামলা। গ্রেপ্তার হন পরিমল সাহা। গ্রেপ্তার হন অন্যান্য অভিযুক্তরাও।

- Advertisement -

আদালতের নির্দেশে তাঁদের প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হয়। সেখানেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন পরিমলবাবু। তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আরও একবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। রাজ্য বিজেপি ও তাঁর পরিবার অভিযোগ করেন, বিজেপি সমর্থক বলেই পরিমল ও অন্যান্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। জেলে চিকিৎসা না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান পরিমল সাহা।

প্রসঙ্গত, অসুস্থতার জন্য জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিমল। হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করলে তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আসেন তিনি। ১৭ জুলাই মামলার শুনানিতে রাজ্যকে এই বিষয়ে নোটিশ পাঠায় বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ। ৩১ জুলাই রাখা হয় শুনানির তারিখ। কিন্তু তার আগেই জেল কাস্টডিতে প্রাণ হারান পরিমল সাহা।

তাঁর আইনজীবী পীযুষ রায় এই মৃত্যু নিয়ে আদালতে বিচার-বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। শুক্রবার ছিল সেই মামলার শুনানি। সমস্ত বৃত্তান্ত শুনেই রাজ্য সরকারকে বিচার-বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন শীর্ষ আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে জেল সুপারের বয়ান সহ সেই তদন্তের রিপোর্ট হলফনামার আকারে আদালতে জমা দিতে বলল শীর্ষ আদালত।