চার বছরেও সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি হয়নি

252

অমিতকুমার রায়, মানিকগঞ্জ : প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বুড়ি তিস্তার সেতু নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর সমস্যাও মেটেনি। তাই সেতু নির্মাণের পরও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খারিজা বেরুবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দোমুখা সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না হওয়ায় ওই সেতু দিয়ে মানুষ হোক বা গাড়ি, কেউই চলাচল করতে পারে না। ফলে বর্তমানে নদী পারাপারের জন্য তাঁদের ভরসা প্রায় ২০ ফুট লম্বা সাঁকো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনকে সমস্যার কথা জানানো হলেও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ মিটার লম্বা সেতুটি নির্মাণ করতে সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে ২৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫৬১ টাকা খরচ হয়। প্রায় চার বছর আগে সেতুটির কাজের সূচনা করেন জলপাইগুড়ির তৎকালীন সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পার হলেও সেতুটির দুই পাশের সংযোগকারী রাস্তা আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। এর জেরে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না কেউ। ওই সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না হওয়ায় খারিজা বেরুবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দোমুখা, শালবাড়ি, হরিমন্দির, নতুনবন্দরের প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ভোগ বেড়ে যায়। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় কৃষকরা সমস্যায় পড়েন। খারিজা বেরুবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষিনির্ভর। স্থানীয় কৃষক শ্যামল রায় বলেন, এলাকার কৃষকরা হলদিবাড়ি বাজারে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করেন। দোমুখা এলাকা দিয়ে হলদিবাড়ি বাজারের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে মালকানি, বোনাপাড়া হয়ে ৮ কিলোমিটার ঘুরপথে হলদিবাড়ি যেতে বেশি সময় লাগে, আবার পরিবহণ খরচও বেড়ে যায়। শিক্ষক মিঠু রায় বলেন, অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না হওয়ায় সময় বাঁচাতে সাঁকো ব্যবহার করা হয়। তবে বর্ষাকালে নদীর জল বেড়ে গেলে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনওভাবে নদী পার করে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয়।

- Advertisement -

তাই এলাকাবাসী দাবি তুলেছেন, দ্রুত অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা হোক। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেবতী রায় বলেন, বিষয়টি জেলা পরিষদের নজরে আনা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য বিধানচন্দ্র রায় বলেন, সেতু তৈরি করার পর সে সময় জমিজটের জন্য অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এসজেডিএর চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, বর্তমানে জমিজটের সমস্যা মিটে গিয়েছে। সেচ দপ্তরের অনুমতি পাওয়া গেলেই সেখানে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজ শুরু করা হবে।