জলের স্রোতে ভেসে গেল অ্যাপ্রোচ রোড, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

263

রায়গঞ্জ: মহারাজাহাটে কাঞ্চন নদীর ওপর তৈরি অ্যাপ্রোচ রোডটি বৃহস্পতিবার জলের স্রোতে ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।ফলে নদীর ওপারে থাকা রায়গঞ্জ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়েছেন রোগীর আত্মীয়রা। গর্ভবতী মহিলাদের প্রায় ২২ কিমি ঘুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এদিকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি কেউই নৌকা বা বাঁশের সাঁকোর ব্যবস্থা করেনি।ফলে সাতটি অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা ঝুমা বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ শেষ করার জন্য দাবি জানিয়ে আসলেও আমাদের দাবিকে মান্যতা দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে গেল। কারণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সাপ্তাহিক হাট, পোস্ট অফিস, হাই স্কুল সহ সব কিছুই নদীর ওপারে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় করোনা আবহে আমরা আরও বিপদে পড়ে গেলাম।

- Advertisement -

গ্রাম বাসী বুরন সরকার বলেন, ঠিকাদার সংস্থা গ্রামবাসীদের বিপদে ফেলল। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করার সময়সীমা বেধে দেওয়া হলেও এখনও সেভাবে কাজ শুরু করতে পারেনি।বর্ষার সময় এমন হবে জানিয়েও তারা কাজ শেষ করতে পারল না।

মহারাজাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উত্তম চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের জল নদীতে চলে আসায় আজ অ্যাপ্রোচ রোডটি ভেঙ্গে পড়েছে। সাতটি অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল।বাঁশের সেতু বা নৌকা কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি।ফলে ২২ থেকে ২৫ কিমি ঘুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে হচ্ছে গর্ভবতী মহিলাদের।

উল্লেখ্য, ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মহারাজাহাটে কাঞ্চনদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে রায়গঞ্জের একটি নির্মাণকারী সংস্থা। কিন্ত দেড় বছর হয়ে গেলেও নির্মাণকাজ সেভাবে শুরু করতে পারেনি তারা। এক বছর আগে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। অথচ এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিল। গত ২০ জুন মাসে নির্মাণকারী সংস্থার ঠিকাদার ও আধিকারিকেরা সেতুর বর্তমান অবস্থা দেখতে গেলে গ্রামবাসীরা তাদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। সেতুর কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি করেন। অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ নতুন ভাবে করতে হবে। কারণ কাজের মান খুবই নিম্নমানের হয়েছে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ, আধিকারিকেরা প্রায় এসে কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি। অ্যাপ্রোচ রোডটি ঠিকমতো তৈরি না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চলাচল করছে। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সেতুর কাজ শুরু হলেও এককদম কাজও হয়নি। আমাদের নিয়ে পুতুল খেলা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পুরোনো সেতুর পাশ দিয়ে একটি অ্যাপ্রোচ রোডটি তৈরি করা হয়েছে। প্রায় দুবছর আগে পুরোনো সেতুটি বসে গেলে প্রশাসন থেকে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে দেয়। পূর্ত দপ্তর সেতু নির্মাণের জন্য ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ করে দেড় বছর আগে। নির্মাণকারী সংস্থা কাজ শুরু করলেও মাঝপথে বন্ধ করে দেয়।

রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অমল সরকার জানান, তিনি রায়গঞ্জে থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। খুব আপাতত নৌকা দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।

রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস কুমার ঘোষ বলেন, রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে। তবে তারা যদি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে আমরা নৌকা বা বাঁশের সেতু দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করব।