আট বছর আগে নির্মিত অর্জুনা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র আজও চালু হল না

হরিশ্চন্দ্রপুর : সাত-আট বছর আগে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু এখনও স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা পেলেন না গ্রামবাসীরা। এই নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মালিওর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অর্জুনা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু না হলে বড় আন্দোলনে নামা হবে। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মোস্তাক আলম জানান, কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের সময় ন্যাশনাল রুরাল হেলথ মিশন প্রকল্পে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তৈরি হয়েছিল। অর্জুনা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ওই সময় নির্মিত হয়। আমি এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করার ব্যাপারে জেলাশাসক থেকে শুরু করে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বারবার বলেছি। কিন্তু আজও যে কেনও এই ব্যাপারে ঢিলেমি হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।

অর্জুনা গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল বলেন, দীর্ঘ সাত থেকে আট বছর আগে এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তৈরি হয়। কিন্তু তারপর থেকে একদিনের জন্য কোনও স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মেলেনি। স্বাস্থ্যকর্মীরা এলেও গ্রামের অন্য একটি বাড়িতে বসে কাজ করে চলে য়াচ্ছেন। আমরা চাই, অবিলম্বে এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হোক। তাতে আমাদের গ্রামের মানুষের সমস্যা কমবে। স্থানীয় এক বৃদ্ধ বসন্ত মণ্ডল বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সাত বছর আগে থেকে তৈরি হয়ে পড়ে আছে। কোনও কাজকর্ম হচ্ছে না। এই নিয়ে আমি সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে দরবার করেছিলাম। কিন্তু তিনিও এই সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু না হওয়ার ফলে স্থানীয় লোকজন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাচ্ছেন না। স্থানীয় একটি বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মীরা বসেন। ব্যবহার না হওয়ার ফলে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের দরজা-জানালাগুলি ভেঙে যাচ্ছে। তদারকি করার কেউ নেই।

- Advertisement -

স্থানীয় যুবক নন্দলাল মণ্ডলের অভিযোগ, গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে এখান থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করাতে হচ্ছে। এছাড়া আর কোনও উপায় নেই। আমরা চাই অবিলম্বে এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু হোক। তাহলে অর্জুনার মতো গ্রামীণ এলাকার মানুষ ন্যুনতম সরকারি চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। অর্জুনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জামালউদ্দিন জানান, আমার বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করার কোনও সুযোগ নেই। তাঁকে গাড়িতে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। নতুন ও পুরাতন অর্জুনা গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নির্মাণ হওয়ার পরে আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হল না। অবিলম্বে প্রশাসনের উচিত উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু করা।

মালিওর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সেতারা খাতুন বলেন, আমরা এই বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানিয়েছি। পঞ্চায়েতের পক্ষে মাঝে মাঝে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিষ্কার করা হয়। পানীয় জলের একটা সমস্যা রয়েছে। আমরা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে পানীয় জল পরিষেবা দেব। কিন্তু তৈরি হওয়ার পর এখনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কেন চালু হল না, তা আমি বলতে পারব না। জেলা পরিষদের শিশু ও নারী কল্যাণ ও ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ মর্জিনা খাতুন জানান, আমি এই বিষয়ে জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রীর নজরে তুলে ধরব। এছাড়াও জেলা পরিষদের আসন্ন মিটিংয়ে সভাধিপতি সহ স্বাস্থ্যকর্তাদের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। রাজ্যের কুটিরশিল্প পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান তাজামূল হোসেন বলেন, আমি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে এই বিষয়ে জানাব। যাতে এলাকার বন্ধ হয়ে থাকা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি অবিলম্বে চালু করা যায়।

এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সাগর বসাক বলেন, আমি এই ব্লক হাসপাতালের দাযিত্বে পাঁচ মাস হল এসেছি। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি ফাস্ট ও সেকেন্ড অক্সিলারি নার্স ও মিডওয়াইফারি দ্বারা পরিচালিত হয়। মূলত স্বাস্থ্য দপ্তরের ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম, বেসলাইন প্রোগ্রামগুলি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে পরিচালিত হয়। বর্তমানে অর্জুনা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকায় এখনও স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে হ্যান্ডওভার হয়নি। তাই সেখানে একটি ভাড়া বাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাজকর্ম চলছে। আমি ব্লক প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি। পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি মিটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যবিভাগের হাতে কেন্দ্রটি তুলে দিলে আমরা কাজ আরম্ভ করে দেব।