জলের তোড়ে হেমকুমারীতে বাঁশের সেতু ভাঙল

283

হলদিবাড়ি : কয়েক বছর আগে সেতু ভেঙেছে। যাতায়াতের জন্য সেতুর ভাঙা অংশের ওপর একটি বাঁশের সেতু তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সেটিও কচুরিপানা ও জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে। তার জেরে মূল ভূখণ্ড থেকে একটি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। অনেকেই ভাঙা সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। পারাপারের সময় সাঁকো থেকে নীচে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা প্রায় ঘটছে। ওই সাঁকো মেরামত না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন হলদিবাড়ি ব্লকের হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তঘেরা বালুরটারি গ্রামের বাসিন্দারা। ভাঙা কাঠের সেতুর জায়গায় কংক্রিটের সেতু তৈরির দাবি করেছেন তাঁরা।

কয়েক বছর আগে ভারী বর্ষণে বুড়ি তিস্তা নদীর জলের তোড়ে কাঠের সেতুর একাংশ ভেঙে গিয়েছিল। সেতু ভাঙার পর মাঝেমধ্যেই ওই এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন জনপ্রতিনিধি সহ প্রশাসনিক কর্তারা। তারপর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে অস্থায়ীভাবে সেতুর ভাঙা অংশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়। এবছর বর্ষার বৃষ্টি শুরু হতেই সেটি ভাঙতে শুরু করেছে। সাঁকোর একাংশ ভেঙে নদীর জলে তলিয়ে গিয়েছে। কাঠের পাটাতন খুলে বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। বাইক, সাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও ওই সাঁকো পার হওয়া ঝুঁকির।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভৌগোলিক দিক থেকে বালুরটারি গ্রামটির উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে বাংলাদেশের সীমান্ত কাঁটাতারে ঘেরা। গ্রামের প্রবেশের পথে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে বুড়ি তিস্তা নদী। এই নদী গ্রামকে হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। গ্রামে রয়েছে এলাকার একমাত্র বালুরটারি ফোর্থ প্ল্যান প্রাইমারি স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। ভাঙা বেহাল সেতুর কারণে খুদে পড়ুয়াদের স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে দমকলের ইঞ্জিনও গ্রামে ঢুকতে পারে না। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রথমি রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই সেতুটি বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। মাঝেমধ্যে বাঁশের সেতু তৈরি করে দেওয়া হলেও ভেঙে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান বলেন, ওই এলাকায় বুড়ি তিস্তা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের প্ল্যান তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই তার অনুমোদন মিলবে বলে আশা করছি।