ভোটের মুখে গ্রামে বিধায়ক, পাকা রাস্তার কাজের সূচনা

মালদা : গ্রাম থাকলেও এতদিন ছিল না কোনও রাস্তাঘাট। কর্দমাক্ত পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন গ্রামের আড়াই হাজার বাসিন্দা। বিভিন্ন দলের নেতারা ভোটের সময় এসে রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুধু ভোট নিয়ে গিয়েছিলেন। ভোটে জেতার পর ঘুরেও তাকাতেন না গ্রামের দিকে। এমন দুর্দশা নিয়ে কেটে গিয়েছে তাঁদের দিন। পাকা সড়ক হওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁরা।

কোনও অজ গাঁয়ে গল্প নয়, এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন মালদা শহর সংলগ্ন ইংরেজবাজারের যদুপুর-১ অঞ্চলের পার্বত্যা গ্রামের বাসিন্দারা। শেষ পর্যন্ত ইংরেজবাজারের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ গ্রামের এই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগ নেন। লোকসভা ভোটের আগেই গ্রামে ঢোকার প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করে দেন তিনি। বাকি রাস্তার কাজও করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। অবশেষে সোমবার সেই অসম্পূর্ণ রাস্তার কাজের সূচনা করলেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন ইংরেজবাজারের বিডিও সৌগত চৌধুরি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ প্রতিভা সিংহ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ, জুল্লুর রহমান প্রমুখ। রাস্তার কাজের সূচনা হওয়ায় এদিন খুশির বান পার্বত্যা গ্রামে।

- Advertisement -

যদুপুর বাইপাস মোড় থেকে সাদুল্লাপুর যেতে রাজ্য সড়ক থেকে বাঁদিকে ঘুরে এক কিলোমিটার ভিতরে গ্রামের অবস্থান। মূলত তপশিলি জাতিভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষের বসবাস গ্রামে। বেশিরভাগ মানুষই শ্রমজীবী। ইংরেজবাজার পুরসভার জঞ্জাল সাফাই বিভাগের শ্রমিকরা ওই গ্রাম থেকেই আসেন। অনেকে গৌড়বঙ্গ স্টেশনের রেক পয়েন্টে শ্রমিকের কাজ করেন। গ্রামের গৃহবধূ টমা ঘোষ জানান, জেলার অন্যান্য গ্রামের সঙ্গে আমাদের গ্রামের কোনও মিল নেই। এখন গ্রাম অনেক আধুনিক। প্রায় প্রতিটি গ্রামে তৈরি হয়েছে পাকা সড়ক, জলনিকাশি ব্যবস্থা, ইলেক্ট্রিক, পানীয় জলের ব্যবস্থা, পাকাবাড়ি। কিন্তু আমাদের গ্রাম এখনও পুরোনো আমলেই থেকে গিয়েছে। আমাদের জীবনযাত্রার মান বদলানোর জন্য কোনও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এগিয়ে আসেননি। এসেছেন শুধু ভোট নিতে। তবে কথা রেখেছেন বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ।

তাঁর কথায়, ২০১৯ সালে তাঁর উদ্যোগেই গ্রামে ঢোকার প্রথম পাকা রাস্তা তৈরি হয়। প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করে দেন তিনি। বাকি দেড় কিলোমিটার রাস্তা পরে করবেন বলে জানিয়েছিলেন। আজ সেই অসমাপ্ত কাজের সূচনা হয়ে গেল। আমরা অত্যন্ত খুশি। আশা করি, আমাদের গ্রামও ধীরে ধীরে আধুনিক রূপ নিবে। গ্রামবাসী বাবলু ঘোষ বলেন, আমি গৌড়বঙ্গ স্টেশনের রেক পয়েন্টে শ্রমিকের কাজ করি। বিধায়ক গ্রামে ঢোকার মতো রাস্তা করেছিলেন আগেই। তিনি বলেন, তবে গ্রামের ভিতর দিয়ে স্টেশন যাওয়ার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। বর্ষায় এই পথ দিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য। গ্রামের মানুষ ১২ কিলোমিটার ঘুরপথে গৌড়বঙ্গ স্টেশনে যাচ্ছিলেন। অথচ গ্রাম থেকে স্টেশনে যাওয়ার পথ মাত্র ২ কিলোমিটার। অবশেষে কথা রেখেছেন বিধায়ক। আজ রাস্তার কাজের সূচনা করলেন তিনি। আমরা অত্যন্ত খুশি।

নীহারবাবু বলেন, এই গ্রামের বেশিরভাগ শ্রমিক ইংরেজবাজার পুরসভায় জঞ্জাল সাফাইয়ে কাজের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৬ সালে আমি যখন প্রথম ভোটে দাঁড়াই, তখন এই গ্রামে প্রচারে এসেছিলাম। গ্রামে ঢুকতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল। কারণ, সেই রাস্তা ছিল কাদামাটির। আমি গ্রামবাসীদের কথা দিয়েছিলাম, বিধায়ক হলে গ্রামে কাঁচা রাস্তা থাকবে না। তবে গোটা রাস্তা একসঙ্গে করা সম্ভব ছিল না। প্রথমে এক কিলোমিটার রাস্তা করেছিলাম। এবার বাকি দেড় কিলোমিটার রাস্তার কাজের সূচনা করলাম। আশা করি একমাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।