ডুয়ার্সে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার ‘পাখির চোখ’ চা বাগান

146

নাগরাকাটা: ডুয়ার্সে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার কেন্দ্রে থাকল চা বাগান। চা বলয়ের মূল বাসিন্দা আদিবাসী ও গোর্খা সম্প্রদায়দের পাশাপাশি রাজবংশীদেরও মন জযে চেষ্টায় কোন কার্পণ্য রাখেনি গেরুয়া শিবির। বাগানের মজুরি থেকে স্বাস্থ্য। শিক্ষা থেকে মহিলা ও শিশু কল্যাণ। একাধিক এলাকায় সভামঞ্চের ভাষণ থেকে সব কিছুই ছুঁযে গেছেন বিজেপির উত্তরবঙ্গের শীর্ষ নেতারা। গেরুয়া শিবিরের প্রতিশ্রুতি, সরকারে এলে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি যেমন ৩৫০ টাকা হচ্ছেই তেমনি চা বাগানের বাসিন্দাদের জমির পাট্টা দেওয়াও তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিজেপি।

দার্জিলিংয়ের সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয কমিটির মুখপাত্র রাজু বিষ্ট জানান, তৃণমূল মাত্র ২৬ টাকা মজুরি বাড়িয়ে শ্রমিকদের ভুল বোঝাচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি যাতে ৩৫০ টাকা হয় সেই বিল ৪ মাস আগেই সংসদে পাশ হযে গেছে। এটা শ্রমিকদের অধিকার। এখন আর তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। চা বাগানের বেহাল স্বাস্থ্য পরিসেবার কথা উল্লেখ করে বিজেপি সাংসদরা জানিয়েছেন,  এখানে ইএসআই হাসপাতাল গড়া হবে। বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হবে।

- Advertisement -

আলিপুরদুযার জেলার অংশ পার করে জলপাইগুড়িতে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা হয় তেলিপাড়া থেকে। এরপর তা চলে যায় গয়েকাটায়। সেখানে একটি সভায় দলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সভাপতি বাপি গোস্বামী জানান,  তণমূলের কেউ ফুল দিলে তাঁকে পদ্মফুল দেবেন। কিন্তু যদি কেউ লাঠি দেখায তাহলে তাঁকে দা দেখাবেন। আর যদি ওঁরা দা দেখায তবে কুড়ুল দেখাবেন। গয়েরকাটা থেকে একে একে বিন্নাগুড়ি, বানারহাট, লুকসান, নাগরাকাটা, চালসা, মালবাজার হযে যাত্রা এদিনের মতো শেষ হয় মযনাগুড়িতে। সবকটি স্থানেই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে পরিবর্তন যাত্রাকে স্বাগত জানান বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। নাগরাকাটায় রাজবংশী সম্প্রদায়ের সংকীর্তন, নেপালী ও আদিবাসী সম্প্রদায়দের পরম্পরাগত লোকনৃত্য সহ ধামসা মাদলের তালে ডুয়ার্সের মিশ্র সংস্কৃতির মূলভাবকে ফুটিয়ে তোলা হয় পরিবর্তন যাত্রায়। নাগরাকাটার জনসভার পর পরিবর্তন যাত্রা চালসায় পৌঁছলে সেখানে যোগ দেন কেন্দ্রীয় উপজাতি মন্ত্রী অর্জুন মুণ্ডা। তিনি চালসা গোলাইতে আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর বিরসা মুণ্ডার মূর্তিতে মালা দেন। এরপর মালবাজারে পৌছেঁ সেখানেও একটি জনসভা হয়। শেষে সভার ব্যবস্থা ছিল মযনাগুড়িতেও। সেখানে রাত্রিযাপনের পর বৃহস্পতিবার পরিবর্তন যাত্রা যাবে ধূপগুড়িতে। সেখান থেকে ফের মযনাগুড়ি হযে মেখলিগঞ্জে। এদিনের যাত্রায রাজু বিষ্ট ছাড়াও ছিলেন আরও দুই সাংসদ জন বারলা ও ডাঃ জয়ন্ত রায়। বিধায়ক মনোজ টিগ্গা ও শুক্রা মুণ্ডাও উপস্থিত ছিলেন আগাগোড়া। এছাড়াও ছিলেন দলের রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ প্রামাণিক।