ফালাকাটায় ‘শুনুন চাষি ভাই’ কর্মসূচিতে প্রশ্নের মুখে বিজেপি

394

ফালাকাটা: কেন্দ্রের কৃষি আইন নিয়ে ঘরে-বাইরে চাপে পড়েছে বিজেপি। ফালাকাটায় এবার শুনুন চাষি ভাই কর্মসূচিতে গিয়েও কৃষকদের একাংশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হল বিজেপি নেতাদের। রবিবার ব্লকের কালীপুর, শিশাগোড়, পারপাতলাখাওয়া গ্রামে আয়োজিত কর্মসূচিতে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের নানা প্রশ্ন করেন কৃষকরা।তবে বিজেপির কিষাণ মোর্চার নেতারাও কৃষকদের সাধ্যমত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এদিকে কৃষি জমিতে গিয়ে বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপান উতর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, লোক দেখানো কর্মসূচি নিয়ে নাটক শুরু করেছে বিজেপি। তাই কৃষকরাই বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন বলে তৃণমূলের কৃষক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন। তবে কৃষকদের বঞ্চিত করে তৃণমূলের সরকারই পালটা নাটক করছে বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, ফালাকাটায় উভয় দলের কৃষক সংগঠনের তৎপরতায় রাজনৈতিক ঝামেলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্র কৃষক অধ্যুষিত। এখানকার যেকোনও নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ট কৃষক ভোট মূল ফ্যাক্টর। তাই আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে কৃষক ভোট টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধীতা করে দুর্গাপুজোর আগেই বিজেপির উপর চাপ সৃষ্টি করে তৃণমূল। এখন বাধ্য হয়ে কৃষি আইনের সমর্থনে ময়দানে নামতে হয়েছে বিজেপিকে। এজন্য ফালাকাটায় দফায় দফায় ‘শুনুন চাষি ভাই’ কর্মসূচি পালন করছে পদ্মশিবির।

এদিকে আগামী ৮ ডিসেম্বর কৃষকদের ভারত বনধকে সমর্থন করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাই কেন্দ্রের কৃষক আইন নিয়ে ফালাকাটার কৃষক মহলেও জোর চর্চা চলছে। এই পরিস্থিতিতে এদিন ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষি অধ্যুষিত কিছু এলাকায় শুনুন চাষি ভাই কর্মসূচিতে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন বিজেপি নেতারা। এদিন সরাসরি কৃষি জমিতে গিয়ে শুনুন চাষি ভাই কর্মসূচি করেন বিজেপির কিষাণ মোর্চার জেলা সহ সভাপতি সুজিত সরকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিষাণ মোর্চার ফালাকাটার ১৫ নম্বর মন্ডল সভাপতি পরিমল সরকার, মন্ডল সহ সভাপতি নীলকমল সরকার প্রমুখ। তাঁরা কৃষি আইনের স্বপক্ষে হ্যান্ডবিল বিলি করে বোঝাতে গেলেই একের পর এক প্রশ্ন করেন কৃষকরা।

কৃষক গোপাল সরকার বলেন, ‘রাজ্য সরকার তো কেসিসি, কৃষক বন্ধুর সুবিধা দিয়েছে। কেন্দ্র তাহলে এই আইনের মাধ্যমে কী দেবে? আবার আরেক কৃষক মানিক তরফদার বলেন, ‘ভোট আসলেই সব সরকার কৃষক দরদি সাজার চেষ্টা করে। কিন্তু সার, বীজের দাম তো কমেনি।’ আবার কেউ কেউ প্রশ্ন করেন যে, কৃষি যন্ত্রপাতির দামও এখন অনেক বেশি। গত বছর কৃষকরা আলুর দাম পায়নি। কিন্তু সেই আলুই পরে ৪০-৫০ টাকা কেজি কিনে খেতে হয়েছে। এবার আলু বীজের দামও দ্বিগুণ। এসব নিয়ে কেন্দ্র সরকার ভাবছে না কেন, সেই প্রশ্ন করেন বেনাম ওরাওঁ, সমীর ওরাওঁ, মনোরঞ্জন বর্মন প্রমুখ।

এব্যাপারে কৃষকদের পক্ষ নিয়ে কিষাণ ও খেতমজদূর তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুনীল রায় বলেন, ‘এই আইনের বিরুদ্ধে কৃষকরাই রুখে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপি কৃষি জমিতে গিয়ে নাটক করছে। কেন্দ্র সার,বীজ ও যন্ত্রাংশের ভরতুকি তুলে দিয়েছে। এই সব কিছুর দাম আকাশছোঁয়া। এই কালা আইনের ফলে আগামীতে কৃষকরা হিমঘরে পণ্য রাখতে পারবেন না, ফসল্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন না। কৃষকদের নিয়ন্ত্রণ করবে পুঁজিবাদীরা।’ তাই মঙ্গলবার এই আইনের বিরুদ্ধে ফালাকাটায় দিনভর অবস্থান বিক্ষোভ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে কিষাণ মোর্চার জেলা সহ সভাপতি সুজিত সরকার পরে বলেন, ‘কেন্দ্র নয়, কৃষকদের সবদিক থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের কৃষক সম্মান নীতি যোজনা এখানে চালু হয়নি। তৃণমূলের ধান্দাবাজরা সার ও বীজের কালোবাজারি করায় কৃষকদের সব কিছু চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। কৃষি আইনের অপব্যাক্ষা করে বিভ্রান্তির নামে নাটক করছে তৃণমূল। আমরা এদিন সাধ্যমত কৃষকদের সব কিছু বুঝিয়েছি।’