দুর্নীতির অভিযোগে নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটের ময়দানে বিজেপি নেতা

65

বক্সিরহাট: দলীয় নেতৃত্বের প্রতি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তুফানগঞ্জ বিধানসভায় নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়ালেন বিজেপির প্রাক্তন নেতা। বুধবার বক্সিরহাটে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য মদন মোহন ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে ভোটে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করলেন বিজেপির প্রাক্তন ৩২ নং জেলাপরিষদ কমিটির সম্পাদক সুশীল দাস। বক্সিরহাট থানার ধলডাবরী গ্রামের বাসিন্দা সুশীল দাস সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন ৩৬ বছর ধরে বিজেপি করেছেন। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে দলে বিশেষকরে জেলা ও মণ্ডল কমিটিতে দুর্নীতি বাসা বেধেছে। বিজেপির পুরানো কর্মীরা দলে ঠাঁই পাচ্ছন না। দলের উপরতলা ভরেছে দুর্নীতিবাজ তৃণমূলের লোকে আর নিচুতলা নিয়ন্ত্রন করছে নবাগত বিজেপিরা। দিলীপ ঘোষের মত লোকেরাও পাত্তা পাচ্ছেন না দলে। লোকসভা নির্বাচনের পর বক্সিরহাট সহ কোচবিহার জেলায় বিজেপির নেতানেত্রীরা তৃণমূলের লুটেরার ও ডনদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছে। তা তিনি মেনে নিতে পারেননি ফলে দল তার উপর চাপ সৃষ্টি করায় তিনি বসে যান। এই ভ্রস্টাচারের প্রতিবাদ করতেই তিনি বিজেপি ছেড়ে নির্দল হয়ে বিজেপির জেলা নেত্রীর বিরুদ্ধে ভোটে দাড়িয়েছেন। এতে তিনি বিজেপির পুরানো কর্মীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। বিজেপিকে প্রতিপক্ষ করে তিনি জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছেন বলেও আশাবাদী।

সাংবাদিক সন্মেলনে মদন মোহন ঘোষ বলেন গত ৪০ বছর ধরে তিনি বিজেপি করছেন। বক্সিরহাটে বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু তবুও বর্তমানে জেলা কমিটিতে  গুরুত্বহীনভাবে তাকে রাখা হয়েছে। তিনি বিজেপির জেলা ও মণ্ডল কমিটির উপর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের পর জেলাজুড়ে তৃণমূলের দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে  তোলা নেওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। এমনকি মণ্ডল কমিটি গঠনের সময় মণ্ডল সভাপতিদের আড়াই লক্ষ করে টাকা দিতে হয়েছে।  আবার তারাও অঞ্চল কমিটির দ্বায়িত্ব দিতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে একইভাবে টাকা নিয়েছেন।’

- Advertisement -

একই সঙ্গে তিনি জানান, জেলার ৪২টি মণ্ডলের মধ্যে ৩৫টি মণ্ডলের সভাপতি করা হয়েছে কোচ রাজবংশী সম্প্রদায়ের লোকেদের। বিজেপির পতাকাও ঢেকে যাচ্ছে কোচরাজবংশীদের হলুদ পতাকায়। তাই ওপার বাংলা থেকে ভিটেমাটি ছেড়ে আসা মানুষেরা এতে বিপদের আশঙ্কা করছেন। বিজেপির উর্দ্ধে যে সংঘ পরিবার রয়েছে তাদের কাছে এসব ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। দল নয় দলীয় নেতৃত্বের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষণা করেই তাঁরা জেলার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী দাড় করিয়েছেন।  তার মধ্যে তুফানগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী সুশীল দাস।

এ ব্যাপারে বিজেপির তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রীক সহ-সংযোজক বিমল পাল বলেন, ‘সুশীল দাস  ও মদনমোহন ঘোষ দুজনের অভিযোগই ভিত্তিহীন। সুশীল দাস গত বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস জোটের হয়ে প্রচার করেছেন লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে তারা খোজ নিয়ে জেনেছেন তিনি তৃণমূলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূলের লোকেদের কথাতেই তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাড়িয়েছেন। তিনি বিজেপির কেউ নন তাই বিজেপির কোনো ক্ষতি হবে না।  অপরদিকে বক্সিরহাটে বিজেপির গঠনে মদনমোহন ঘোষের একটি অবদান রয়েছে তা অস্বীকার করার নয়। বিজেপি সেকারণে তাকে মর্ষাদা ও সম্মান জানিয়ে জেলা কমিটিতে স্থান দিয়েছিল কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলার বাইরে থাকায় দলের সঙ্গেও তার কোনো যোগ নেই। ফলে তিনি না জেনেই এসব অবান্তর মন্তব্য করছেন কারোর প্ররোচনাতে।’ কিন্তু তাতে ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান বিমলবাবু।