উত্তরের জেলাগুলির কোন্দলে উদ্বেগে বিজেপি নেতৃত্ব

জলপাইগুড়ি : বিজেপির সাংগঠনিক মূল্যায়নে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গজুড়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হালে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে উত্তরের আট সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জেনেছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরএসএস ঘনিষ্ঠ অরবিন্দ মেনন। লোকসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের পর দলের উপদলীয় কোন্দল বেড়েছে। প্রদেশ নেতৃত্ব উপদলীয় কোন্দল নিরসনে হস্তক্ষেপ করলেও তা মেটাতে পারেননি। জেলায় জেলায় বহু পুরোনো নেতা-কর্মী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। জেলা সভাপতিরা নিজ নিজ জেলা সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়ে তাঁদের অভিমত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। উত্তরবঙ্গে দলের ফল ভালো হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবিলম্বে এই কোন্দল বন্ধ করার জন্য রাজ্য নেতত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আলিপুরদুয়ারে বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার সঙ্গে দলের পুরোনো নেতা মানিক সাহা, হেমচন্দ্র রায়, রাহুল রায়দের সম্পর্ক সুখকর নয়। এই জেলার মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বিধানসভায় বিজেপির দলনেতা। তপশিলি জাতি এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এই জেলায় মনোজবাবুর মাধ্যমে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে উপদলীয় কোন্দল বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। কোচবিহারে দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি নিখিল দে, হেমচন্দ্র বর্মন, অনিল মালাকার, উৎপল দে প্রমুখ ক্ষুব্ধ। জেলা সভানেত্রী মালতী রাভার সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে এই নেতাদের মতবিরোধ রয়েছে। কোচবিহার জেলায় বিধানসভা নির্বাচনে সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপি প্রার্থী মনোনয়ন করতে পারবে কি না তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামীর সঙ্গে প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বর্তমান রাজ্য সহ সভাপতি দীপেন প্রামাণিকের আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। দলীয় সূত্রের খবর দুই নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

- Advertisement -

শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলায় জেলা সভাপতি প্রয়াত অভিজিৎ রায়চৌধুরীর অনুগামীরা প্রাধান্য পাচ্ছেন না। এই জেলায় বর্তমান জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়ালের সঙ্গে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন বসুর সম্পর্ক সুখকর নয়। উত্তর দিনাজপুর জেলায় সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ির সঙ্গে প্রাক্তন জেলা সভাপতি শংকর চক্রবর্তী, হেমচন্দ্র মণ্ডল, নির্মল দাম, বাসুদেব দাস, আদিত্য বিশ্বাসদের মতবিরোধ থাকার কথা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কানে পৌঁছেছে। সাংগঠনিক বিষয়ে রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী সময় দেন না বলে সাধারণ কর্মীদের অভিযোগের কথাও নেতৃত্বের কানে পৌঁছেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সভাপতি বিনয় বর্মনের সঙ্গে প্রাক্তন সভাপতি শুভেন্দু সরকারের তীব্র মতভেদের কথা জেলাতে বিজেপির নেতা-কর্মীদের অজানা নয়। মালদা জেলাতেও সাংগঠনিক বিরোধ রয়েছে। জেলা সভাপতি গোবিন্দ মণ্ডল দলের সাংগঠনিক হাল শক্ত হাতে ধরার চেষ্টা করছেন। রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক রথীন বসু বলেন, আমাদের তেমন বিরোধ নেই। বিরোধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার হচ্ছে। দল সংঘবদ্ধ।