ভোটের মুখে ব্লক সভাপতি বদল তৃণমূলের

123

বর্ধমান: ‘ভূমিপুত্র’-কে প্রার্থী করার দাবি পুরণ হয়নি। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভায় অলোক মাঝিকে প্রার্থী করেছে দল। তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন জামালপুরের বিধানসভার তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেই ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহূতি পড়ল মঙ্গলবার। ব্লক তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রার্থী সঙ্গ দেওয়া শ্রীমন্ত রায়কে। নয়া ব্লক সভাপতি করা হয়েছে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খানকে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বপন দেবনাথ এদিন সকালেই ব্লক সভাপতি পদে নিয়োগপত্র তুলে দেন মেহেমুদ খানের হাতে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরমে উঠেছে জামালপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংঘাত। প্রকাশ্যে অনেকে মুখ খুলতে না চাইলেও হাবে ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন ভোটের দিন তাঁরা বুথে ঢুকে ‘সাপ লুডো’ খেলে বেরিয়ে আসবেন।

জামালপুর বিধানসভায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদন্দ নতুন ঘটনা নয়। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে মেহেমুদ খানের সঙ্গে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল প্রামাণিক জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেও পরাজিত হন। গত লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের অন্যান অংশের পাশাপাশি জামালপুরেও বিজেপির ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কোনও ছেদ পড়েনি। গোষ্ঠী-রাজনীতিতে লাগাম টানতে শেষমেষ অরবিন্দ ভট্টাচার্য্যকে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে বয়সে তরুণ শ্রীমন্ত রায়কে ব্লক তৃণমূলের সভাপতি করে দল। বিধানসভা ভোটের ঢাক বাজার অনেক আগে থেকেই তৃণমূল কর্মীরা জামালপুরের ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি তোলেন। প্রার্থী হিসাবে মেহেমুদ খান তাঁর অনুগামী ভূতনাথ মালিককে তুলে ধরেন। অপরদিকে শ্রীমন্ত রায়ের অনুগামীরা জেলাপরিষদ সদস্য ক্ষেত্রমোহন মাঝির নাম প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরেন। কিন্তু রাজ্য তৃণমূল জামালপুরের তৃণমূল কর্মীদের দাবিকে কোনও গুরুত্ব না দিয়ে গলসির তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ মেটাতে অলোক মাঝিকে প্রার্থী ঘোষণা করে। অলোক মাঝিকে প্রার্থী করা হয়েছে জানার পরেই মেহেমুদ খান ও তাঁর অনুগামীরা বেঁকে বসেন। কিন্তু ব্লক সভাপতি হিসেবে শ্রীমন্ত রায় প্রথম থেকে অলোক মাঝিকে সঙ্গ দিয়ে ভোটের প্রচারে ঝাপিয়ে পড়েন। যদিও কোপের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ঘটনায় হতাশ শ্রীমন্ত রায় ও তার অনুগামীরা। এদিন থেকে তাঁরা নিজেদের রাজনীতির ময়দান থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য ভোটের দিন খেলা হবে, তবে খেলা হবে ’সাপ লুডো‘।

- Advertisement -

জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বপন দেবনাথের সঙ্গে এদিন ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘শ্রীমন্তকে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের নির্দেশে মেহেমুদ খানকে ব্লক সভাপতি করা হয়েছে। দু’জনেই হাতে হাত মিলিয়ে দলকে জেতানোর জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়বে।’

শ্রীমন্ত রায় এদিন শুধু বলেন, ’দলের সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নিয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য তাঁকে যদি আরও স্বার্থ ত্যাগ করতে হয় তাঁর জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।’ তবে শ্রীমন্তর অনুগামীরা দলের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুসছেন। সভাপতি মোনোনিত হওয়ার পর মেহেমুদ খান এদিন বলেন, ‘দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা তিনি যথাযথ ভাবেই পালন করবেন। অলোক মাঝিকে ভোটে জেতানোই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।’ তবে ভোটের আগে এইভাবে সভাপতি বদলের সিদ্ধান্তে জামালপুর ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস দল বিপদে পড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।