প্রশাসনিক টানাপোড়েনে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হল না বাড়িতে

300

তুফানগঞ্জ: প্রশাসনের যোগাযোগ ব্যবস্থার গাফিলতিতে মৃতদেহ পেল না পরিবার। বুধবার এমনই করুণ চিত্র দেখা গেল তুফানগঞ্জ মহকুমার অসম-বাংলা সীমান্তের ছাগলিয়াতে। মৃতদেহ না পেয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ওই পরিবারটি। মৃত ব্যক্তির নাম হোসেন আলি (৫৩)। তাঁর বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার অন্তর্গত দুল্লুপুরে। রমজান মাসে শেষবারের মতো দেখতে পেল না পরিবারের লোক। আক্ষেপ ওই পরিবারের সদস্যদের।
অসম-বাংলা সীমান্তে ১৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরেও মৃতদেহ আনার অনুমতি দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শেষে দেহটি নিয়ে ফেরত যায় অসম সরকার। পরে দেহটি অসমের গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হোসেন আলি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন কয়েকদিন আগে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালেই তাঁর মৃতদেহ নিয়ে অসম সীমান্তে আসে একটি অ্যাম্বুলেন্স। বারবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে মৃতদেহ নেওয়ার অনুমতি চাইলেও তা মানা হয়নি। ১৭ ঘণ্টা অনুমতির অপেক্ষায়  সীমান্তেই আটকে থাকে মৃতদেহ। শেষে বুধবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেহটি শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে গুয়াহাটি ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সাক্ষী থাকেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার বাসিন্দা তথা হোসেন আলির সহকর্মী রতন কিস্কু।
কুশমণ্ডির এক ঠিকাদারের হাত ধরে হোসেন আলি গিয়েছিলেন অসমে। সেখানে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় দের মাস থেকে কাজ করছিলেন তিনি। ২৪ এপ্রিল কাজে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রতন কিস্কু হোসান আলির সঙ্গী তাঁকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরই বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল মৃতদেহ। আর এতেই সমস্যা তৈরি হয়। বাধ্য হয়েই অসমের গুয়াহাটিতেই হোসেন আলির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
হোসেন আলির সঙ্গী রতন কিস্কু জানান, হোসেন আলির মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের সকলের সঙ্গে কথা বলে দেহ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দ্যেশ্যে রওনা হই। অসম-বাংলা সীমান্তের ছাগলিয়ায় প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজ জমা দেওয়া হয়। অন্যদিকে যোগাযোগ করা হয় ইটাহার এলাকার বিধায়কের সঙ্গে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আমাদের পশ্চিমবাংলায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই অসম পুলিশের সহযোগিতায় ফের মৃতদেহ গুয়াহাটিতে ফেরত আনা হয়। সেখানেই হোসেন আলির শেষকৃত্য এদিন সম্পন্ন হয়।
হোসেন আলির ছেলে সামসুর হক জানান, বাবা অসমে কাজ করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আমাদের প্রতিবেশী রতন কিস্কুর সহযোগিতায় দেহ অসম থেকে আনা হচ্ছিল। অসম-বাংলা সীমান্তে আসার পর অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়া হয়। আমরা আমাদের স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু সেভাবে সহযোগিতা পাইনি। বাধ্য হয়েই বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় গুয়াহাটিতে। ছাগলিয়া সীমান্তে বাংলার সরকার যা যা কাগজ চেয়েছিল তাই দেওয়া হয়েছিল। একমাত্র স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতিতে বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে পেলাম না।
তুফানগঞ্জ-২’র বিডিও ভাগীরথ হালদার জানান, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।