করোনা লগ্নে মাস্ক পড়েই বিয়ে

282

সমীর দাস, হ‍্যামিল্টনগঞ্জ: ‘যদিদং হৃদয়ং তব, তদিদং হৃদয়ং মম’, মন্ত্রোচ্চারনে মধ‍্যে দিয়েই লকডাউনের মাঝে চার হাত এক হল। ভালোবাসার মানুষকে পেয়ে আবেগে ভাসলেন পাত্র ও পাত্রী। সোমবার এমনই দৃশ্যের সাক্ষি রইল হ‍্যামিল্টনগঞ্জের ডিপুপাড়ার সাধারন মানুষ। এলাকার পঞ্চায়েত সদস‍্য কালীদাস মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে হ‍্যামিল্টনগঞ্জের কালিমন্দির প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ‍্যে দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হল তাদের। পাত্র বছর বাইশের আকাশ সাহা জয়গাঁর ভক্ত চৌপথি এলাকার বাসিন্দা। পাত্রী বছর কুড়ির পিয়ালি রায় হ‍্যামিল্টনগঞ্জের ডিপু পাড়ার বাসিন্দা। তাদের মধ‍্যে কিছুদিন আগেই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পড়ে দুই পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় ১৭ এপ্রিল দুজনের সামাজিক বিয়ে দেবে। ততদিনে অবশ‍্য পরিস্থিতি পাল্টে যায়। করোনা সংক্রমনের জেরে লকডাউন শুরু হয় দেশ জুড়ে।

এই পরিস্থিতিতে ১৭ এপ্রিল নির্ধারিত বিয়ের দিন স্থগিত হয়ে যায়। অন‍্যদিকে পাত্রীর বাবা প্রদীপ রায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে দুই পক্ষ লকডাউনের মাঝে অনারম্বর ভাবে সামাজিক বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। লতাবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সদস্য কালীদাস বাবু পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনিক অনুমতিক্রমে কালিবাড়ির বাইরে বিয়ের আয়োজন করেন। পাত্র আকাশ তার দুই একজন পরিজনকে নিয়ে হ‍্যামিল্টনগঞ্জে সোমবার সকালেই চলে আসেন। কালিবাড়ির পুরোহিত মন্ত্রোচ্চারনের মধ‍্যে দিয়ে বিবাহ প্রকৃয়া সম্পন্ন করেন। পাত্র আকাশ বলেন এই মুহূর্তে কোন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেই। তবে জীবন সঙ্গিনীকে পাশে নিয়েই তিনি করোনা সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চান বলে জানান আকাশ। অন‍্যদিকে পাত্রী পিয়ালি বলেন বাবা ভিষন অসুস্থ। তাই বাবার ইচ্ছেতেই বিয়ের পিঁড়িতে তিনি বসেছেন। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পড় অভিভাবকদের আশীর্বাদ নিয়ে জয়গাঁয় ফিরে যান নব দম্পতি।

- Advertisement -

এলাকার পঞ্চায়েতে সদস্য কালীদাস বাবু বলেন, অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান হয়েছে। লকডাউনের নিয়ম-বিধি মেনে শুভদৃষ্টি, মালাবদল হয়েছে। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানে পাত্রপাত্রী, পুরোহিত ও উপস্থিত কয়েকজন মাস্ক পড়ে ছিলেন। সামাজিক দূরত্ব মেনেই বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও দুজনের জন্মের প্রমানপত্রও মন্দির কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির অনুমতির পরই বিবাহ কার্য শুরু হয়। কালীদাস বাবু সহ পাত্রপাত্রীকে দূরত্ব বজায় রেখেই সুখী দাম্পত্য জীবনের আশীর্বাদ করেন সকলে। করোনা সংক্রমনকে পাশ কাটিয়ে এই ভাবে দুটি হৃদয় এক হয়ে যাওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। নবদম্পতি বলেন, করোনাকে ভয় নয়, মানুষকে সচেতন হবার বার্তাই দেব।