চার বছরেও পাকা হল না সেতু, ভোটমুখে ক্ষুব্ধ ফালাকাটা

83

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙেছিল ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়কের চরতোর্ষা কাঠের সেতু। তারপর পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। এবার বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু এখনও চরতোর্ষায় পাকা সেতু তৈরি হয়নি। যাতায়াতের ভরসা বলতে হিউম পাইপের ডাইভারসন। যা প্রতি বর্ষায় ভেঙে যায়। তখন ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়ক পথ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। এদিকে চলতি বছরে আর দু’মাস পরেই বর্ষা। এবারও এই ভোগান্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নানা স্তরের মানুষ। অথচ ভোটের মুখেও চরতোর্ষা সেতু নিয়ে কোনও রাজনৈতিক নেতাদের মুখে তেমন উচ্চবাচ্য নেই। এনিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভের পারদ বোঝা গেল। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ইভিএমেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়ক জেলার লাইফলাইন বলে পরিচিত। কিন্তু এই সড়কের অভিশাপ হল কয়েকটি কাঠের সেতু। বাম আমলে দীর্ঘ দাবি সত্ত্বেও সেতুগুলি পাকা হয়নি। তৃণমূলের দশ বছরের আমলেও সড়কের হাল ফেরেনি। তবে দু’বছর থেকে এই রাস্তায় ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের চার লাইনের মহাসড়কের কাজ চলছে। এই মহাসড়ক প্রকল্পে আগামীতে পাকা সেতু তৈরি হবে। কিন্তু ২০১৭ সালে চরততোর্ষা কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে আর বিকল্প সেতু কেন তৈরি হল না তা নিয়ে এলাকার মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয়দের যুক্তি, মহাসড়কের সেতু তৈরি হতে অনেক সময় লাগবে। তাই এতদিন বিকল্প সেতু তৈরি করা হলে বর্ষায় কারও ভোগান্তি হত না। কিন্তু ভোটে আসে,আবার চলেও যায়। চরতোর্ষার কথা ভাবে না কোনও সরকার। তাই এই সড়ক নিয়ে সব থেকে বেশি যাঁদের ভোগান্তি হয়,তাঁরা তৃণমূল ও বিজেপির সমালোচনা করতে পিছপা হচ্ছেন না। রাজনীতির প্রসঙ্গ এড়িয়ে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের দাবি, এবার যাতে বর্ষায় ভোগান্তি না হয়, সেজন্য সরকারকে প্রদক্ষেপ করতে হবে।

- Advertisement -

ফালাকাটার বংশীধরপুর, কালীপুর, পারপাতলাখাওয়া, রাইচেঙ্গা, যোগেন্দ্রনগর, মেজবিল, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি এলাকাগুলি কৃষি অধ্যুষিত। শীত, বর্ষা, গ্রীষ্মকালে হাজার হাজার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য ফালাকাটা কৃষক বাজারে বিক্রি হয়। কিন্তু কয়েক বছর থেকে বর্ষাকালে চরতোর্ষার কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চাষিদের। পারপাতলাখাওয়ার কৃষক গোপাল সরকার বলেন, ‘বর্ষায় চরতোর্ষা ডাইভারসন ভেঙ্গে গেলে জমির ফসল কৃষক বাজারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যায়, আবার স্থানীয় বাজারে কম দামেও বিক্রি করতে হয়।’

ভোগান্তি ও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরাও। শিশাগোড়, পলাশবাড়ি, শালকুমারহাট, সোনাপুর, মথুরা সহ নানা এলাকার কয়েক হাজার ব্যবসায়ীকে প্রতিনিয়ত ফালাকাটায় আসতে হয়। শালকুমারহাটের ব্যবসায়ী পরিতোষ রায় বলেন, ‘বর্ষায় চরতোর্ষা ডাইভারসন ভাঙলে ঘোকসাডাঙ্গা, পুন্ডিবাড়ি হয়ে মহাজনদের কাছ থেকে পণ্য সামগ্রী আনতে হয়। এতে কয়েকগুণ বেশি পরিবহণ খরচ লাগে।’ এইসব এলাকার পড়ুয়ারা ফালাকাটা কলেজ ও স্কুলগুলিতে পড়াশোনা করেন। কালীপুর ব্যাংক রোডের কলেজ ছাত্র প্রণব সরকার বলেন, ‘বর্ষায় কলেজ ও টিউশন যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এবার বর্ষার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।’ একাদশ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী প্রিয়া বর্মনের বক্তব্য, ‘ভোট নিয়ে সবাই ব্যস্ত। এ নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। কিন্তু ফালাকাটার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে চরতোর্ষায় দ্রুত সেতু না হলে এবারও বর্ষায় আমার মত ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হবে।’

এপ্রসঙ্গে বিজেপির সাংসদ জন বারলা বলেন, ‘রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে এই সেতুর কাজে বিলম্ব হচ্ছে। আগামীতে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’ তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি তথা দলের প্রার্থী সুভাষ রায় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানার কারণে মহাসড়কের কাজ ঢিমেতালে চলছে। এই প্রকল্পের কারণেই সেতুগুলি নিয়ে সমস্যা বেড়েছে। তা না হলে রাজ্য সরকার অনেক আগেই সেতু তৈরি করত।’