স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘উত্তীর্ণ’ জয়ী সেতু, উচ্ছ্বসিত হলদিবাড়িবাসী

283

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: ভারবহন ক্ষমতা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ভালোভাবেই উতরে গেল রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘতম নদীসেতু ‘জয়ী’। এতেই হাফ ছেড়ে বাঁচলেন তিস্তা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের আধিকারিক সহ বরাত প্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা। আর এই পরীক্ষার কাজ শেষ হওয়াতে টানা চারদিন পর শুক্রবার সকাল থেকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় সেতুটি। সেতুর ওপর দিয়ে শুরু হয় যানবাহন চলাচল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপারের দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন মেখলিগঞ্জ মহকুমার দুই ব্লকের সাধারণ মানুষ। এদিন সেতুটি খুলতেই সেতুটি পরিদর্শন করতে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান।

গত ১ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হয় রাজ্যের সর্ববৃহৎ সেতুটির। উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনের ৭ দিন বাদে অর্থাৎ গত সোমবার স্বাস্থ্য ও ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষা সহ মেখলিগঞ্জের দিকে অসমাপ্ত অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ দ্রুত শেষ করতে তিন দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় সেতুটি। পূর্ত দপ্তর জানিয়েছিল, ৮-১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রেখে বাকি কাজ গুলো সম্পন্ন করা হবে। এই নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনার মুখে পড়তে হয় রাজ্য সরকারকে। সেতুর ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষা সহ সব কাজ শেষ না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কি করে সেতুর উদ্বোধন করে। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রশ্ন তোলা হয়।

- Advertisement -

ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষার দায়িত্ব ছিল এজেন্সি মিথকন(Mythcon) সংস্থার ওপর। তিন দিনে তিন কিমি সেতুর পরীক্ষার কাজ শেষ করতে বেশ বেগ পেতে হয় সংস্থাটিকে। এজেন্সিটি কাজের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আরও একদিন বৃদ্ধি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ফলে টানা চারদিন বন্ধ থাকার পর এদিন সকাল ১১টায় খুলে দেওয়া হয় সেতুটি।

পূর্ত দপ্তর সূত্রে খবর, সেতুটির স্বাস্থ্য খুব ভালো রয়েছে। প্রায় তিন কিলোমিটার সেতুটির ভারবহন ক্ষমতা ৭০আর আর। যা ভারতের ব্রিজ রেটিংয়ে স্ট্যান্ডার্ড। সব কিছু ঠিক থাকায় যানচলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে। পূর্ত দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, জয়ী সেতুর স্বাস্থ্য ভালো রয়েছে। সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন আর যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আর কোন সমস্যা রইল না।