কিশনগঞ্জে কঙ্কয়ীর স্রোতে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু

528

শক্তিপ্রসাদ জোয়ারদার, কিশনগঞ্জ : উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ল কঙ্কয়ী নদীর ওপর নির্মীয়মাণ সেতু। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কিশনগঞ্জের দিঘলব্যাংক ব্লকের গুয়াবাড়ি গ্রামে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছিল। সেতুটি তৈরি হলেও বাকি ছিল সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণের কাজ। এমাসের শেষের দিকে সেতুটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। সেতুর ভেঙে পড়ার জন্য কঙ্কয়ী নদীর হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তনকেই দায়ী করেছে প্রশাসন। তবে দিঘলব্যাংক ব্লকের গুয়াবাড়ি, কুরেলি প্রভতি গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্যই সেতুটি ভেঙে পড়েছে।

কঙ্কয়ী নদী হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপাল সীমান্ত অতিক্রম করে কিশনগঞ্জের দিঘলব্যাংকে ঢুকেছে। দিঘলব্যাংক থেকে বেরিয়ে এই নদী কিশনগঞ্জেই মহানন্দার সঙ্গে মিশেছে। সারা বছর সেভাবে কঙ্কয়ীতে জল না থাকলেও বর্ষার সময় নদীটি ভয়াল আকার নেয়। বর্ষার মরশুমে নদীর স্রোত তীব্র হয়ে যায়। এর ফলে দিঘলব্যাংক ব্লকের পাথরঘাটি পঞ্চায়েতের গুয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। বাসিন্দাদের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় কঙ্কয়ীর ওপর ২৬ মিটার দীর্ঘ সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রশাসন। সেতুর নির্মাণে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দও করা হয়েছিল। সেই মতো শুরু হয়েছিল সেতু তৈরির কাজ। গুয়াবাড়ির সঙ্গে সেতুর সংযোগকারী রাস্তা তৈরির কাজ বাকি ছিল। চলতি মাসের শেষের দিকে সেতুর উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে গত সপ্তাহ থেকে নেপালে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় কঙ্কয়ীর জল বাড়তে শুরু করে। প্রবল জলস্ফীতিতে কঙ্কয়ীর গতির অভিমুখ বদলে যায়। নদীর দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়ে ৭০ মিটার হয়ে পড়ে। এই প্রবল জলের তোড় সেতুটি সামাল দিতে পারেনি। ফলে সেতুটির একেকটি অংশ ধসতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার গোটা সেতুটি ধ্বসে পড়ে।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সেতু না ধসলে গুয়াবাড়ি, গোয়ালতলি, পাথরঘাটি, কুরেলি ও টেরাগাছ ব্লকের ২৪টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি লোকেদের সুবিধে হতো। কিশনগঞ্জের প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সেতুর পিলারগুলি জলের তিন থেকে চার ফিট নীচে তলিয়ে গিয়েছে। এবিষয়ে কিশনগঞ্জের মহকুমা শাসক এস নিয়াজী বলেন, একটি বিশেষজ্ঞ দল সেতু ধ্বসের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। তবে সেতুটি ধসে পড়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে গুয়াবাড়ি, কুরেলি সহ কঙ্কয়ীর তীরবর্তী একাধিক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। সেতুর ভেঙে পড়ার জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন গুয়াবাড়ি, কুরেলির একাধিক বাসিন্দা। গুয়াবাড়ির এক বাসিন্দা বলেন, নদীর দিক পরিবর্তন রুখতে ও ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের কর্তারা বর্ষার শুরুতে এসে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ২৬ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুটির ৪টি পিলার ধসে যাওয়ার জন্য প্রশাসনই দায়ী। সেতুটি তৈরি হলে দিঘলব্যাংক ব্লকের একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা উপকৃত হতেন। যাতায়াত অনেক সুবিধেজনক হত।