৫ দিনেও পিএইচই-র ভাঙা পাইপ সারাই হয়নি

182

ফালাকাটা: গত ১৪ সেপ্টেম্বর চরতোর্ষা নদীর জলের তোড়ে ভেঙে যায় পিএইচই-র মূল পাইপ লাইন। তারপর কেটে গিয়েছে দু’সপ্তাহ। এখনও জলের পাইপ মেরামত করা হয়নি বলে অভিযোগ। এজন্য ফালাকাটার উত্তর কালীপুর, দক্ষিন কালীপুর ও বংশীধরপুরের কয়েক হাজার মানুষ পানীয় জলের সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, চরতোর্ষা ডাইভারশন সারাই করা হলেও জলের পাইপ লাইন এখনও ঠিক করা হয়নি। এজন্য অনেকেই নলকূপের দূষিত জল খাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ জলের জার কিনে নিচ্ছেন। তবে পিএইচই দপ্তর দ্রুত ওই পাইপ লাইন সারাইয়ের আশ্বাস দিয়েছে।

- Advertisement -

প্রায় দু’বছর আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ৬ কোটি টাকা বরাদ্দে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের রাইচেঙ্গার আসাম মোড়ে জল প্রকল্পের রিজার্ভার তৈরি হয়। অভিযোগ, প্রথম থেকেই বেশ কিছু এলাকায় পাইপ লাইন ও ট্যাপকল থাকা সত্ত্বেও জল পৌঁছায়নি। আবার মহাসড়কের কাজের জন্য পাইপ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় এক বছর থেকে কাদম্বীনি চা বাগান সহ রাইচেঙ্গার একাংশ এলাকায় জল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। তবে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যান্য এলাকায় জল পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পনেরো দিন আগে ভারী বৃষ্টির কারণে চরতোর্ষা ডাইভারশনের পাশ দিয়ে থাকা জলের মূল পাইপ ও কয়েকটি কংক্রিটের খুঁটি ভেঙে যায়। তখন থেকেই জল পরিষেবা বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা। এদিকে চরতোর্ষা নদীর জল কমে যাওয়ায় সম্প্রতি ডাইভারশন সারাই করায় যানবাহন চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু এতদিনেও জলের পাইপ লাইন কেন মেরামত করা হল না সেই প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। এ নিয়ে পঞ্চায়েত স্তরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ক্ষুব্দ।

উত্তর কালীপুরের কৃষ্ণপ্রসাদ বর্মন বলেন, ‘এর আগে এতদিন জল পরিষেবা বন্ধ ছিল না। কিন্তু এবার পাইপ মেরামত না করায় বাধ্য হয়ে নলকূপের দূষিত জল খেতে হচ্ছে।’ আরেক বাসিন্দা সমীর বালো বলেন,’নলকূপের জল এতটা দূষিত যে খাওয়া যাচ্ছে না। তাই কিছুদিন থেকে জারের জল কিনে নিচ্ছি।’

আবার কেউ কেউ সাইকেল বা মোটর সাইকেলে চেপে পাত্র নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরের পলাশবাড়ি বা মেজবিলে গিয়ে জল নিয়ে আসছেন। এই জল কষ্টে বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে। কালীপুরের পঞ্চায়েত সদস্যা পম্পি বর্মন রায় বলেন, ‘টানা ১৫ দিন থেকে জল না পাওয়ায় বাসিন্দারা ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন। এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এজন্য সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনের উপরমহলে জানিয়েছি।’

পিএইচই-র আলিপুরদুয়ার জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর অবশ্য বলেন, ‘ওই প্রকল্পটি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের। তবে বিডিও-র মাধ্যমে প্রস্তাব আসায় আমাদের দপ্তর থেকে ওই পাইপ লাইন সারাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওখানে নির্মাণ সামগ্রীও ফেলা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা হবে।’