সংস্কারের জন্য ৪০ দিন বন্ধ থাকতে পারে বর্ধমান লাইনের রেল সেতু

332

বর্ধমান: ব্রিটিশ আমলে তৈরি খানা জংশন রামপুরহাট লুপ লাইনে নওয়াদার ঢাল স্টেশনের কাছে সেতুটি। তার পর থেকে পেরিয়ে গিয়েছে সুদীর্ঘ বছর। সেতুটি সংস্কারের আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রেল সেতু ভেঙে পড়লে যে বড়সড় বিপত্তি ঘটে যাবে তা বুঝতে অসুবিবা হয়নি এলাকার মানুষজনের। তাই তারা দীর্ঘদিন ধরে সেই জরাজীর্ণ সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেতুটি সংস্কারে ব্যাপারে উদ্যোগী হল রেল দপ্তর। পুজোর আগেই সেতুর সংস্কার কাজ শেষ করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, খানা জংশন রামপুরহাট লুপ লাইনে নওয়াদার ঢাল স্টেশনের কাছে থাকা রেল সেতুর উপরের অংশ পুরোপুরি ভেঙে দিয়ে সংস্কার করা হবে। এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম ১ ব্লক অফিসে প্রসাশনিক বৈঠকও হয়েছে। সেই বৈঠকে রেলের আধিকারিক ছাড়াও বর্ধমান উত্তরের মহকুমাশাসক পুষ্পেন্দু সরকার, আউসগ্রাম ১ ব্লকের বিডিও চিত্তজিৎ বসু, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন মাজি সহ এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেতুর সংস্কার কাজ শুরুর জন্যে সামনের সপ্তাহ থেকেই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়টি সুনিশ্চিৎ করার কথা বলেন রেলের আধিকারিকরা। সেতুর কাজের জন্য যাতায়াত প্রায় ৪০ দিন ধরে বন্ধ রাখতে হবে। তাহলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দুর্গাপুজোর আগেই যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হবে বলে রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এছাড়াও সেতুর সংস্কার কাজ চলাকালীন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সেতু সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তার মোড়ে মোড়ে সতর্কতামূলক বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া এবং সংস্কার কাজ চলাকালীন ওই জায়গায় পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ার নিয়োগ রাখার ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

- Advertisement -

এই বিষয়ে সোমবার গুসকরা ২ পঞ্চায়েতের প্রধান সুবীর মণ্ডল বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সেতু বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন রেলের আধিকারিকরা। সুবীরবাবু জানান, সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হলে ২বি জাতীয় সড়কের ওড়গ্রাম থেকে নওয়াদা এবং আলিগ্রাম হয়ে দিগনগরের কেওতলা পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। তারফলে আউশগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের গুসকরা ২ ও দিগনগর ১ পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের সমস্যা হবে। এছাড়াও অক্টোবর মাসের শেষের দিক থেকেই এলাকায় শুরু হয়ে যাবে ধানকাটা। রবিচাষের মরসুম শুরু হয়ে যাবে। সেই সময়ে সেতু দিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকলে চাষিরাও মহা সমস্যায় পড়ে যাবেন। সাধারণ মানুষজনকে এইসব সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। সুবীরবাবু বলেন, এইসব কথা বিবেচনা করে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেতু সংস্কারের কাজ শেষ করার ব্যাপারে রেলের আধিকারিকদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

নওয়াদা এলাকার বাসিন্দা মুরারী মোহন লাহা বলেন, ব্রিটিশ আমলে তৈরি সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়েগেছে। তবুও সেতুর উপর দিয়ে সারাদিন প্রচুর ভারী যানবাহন যাতায়াত করে। দুর্ঘটনা ঘটে গেলে মারাত্মক ক্ষতি হবে বুঝতে পেরে দীর্ঘদিন ধরে সেতু সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছিল। অবশেষে রেল দপ্তর সেতুটির সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, সেতুটির সংস্কারের ব্যাপারে বছর খানেক আগে থেকেই রেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্দিষ্ট সময়েই সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে।’