চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে ক্যানাল রাঙ্গালিবাজনায়

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : বছরের পর বছর ধরে পাড় ভেঙে এগিয়ে আসছে মুজনাই নদী। বাম জমানায় বোল্ডার দিয়ে একটি মাঝারি মাপের পাড়বাঁধ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই পাড়বাঁধটির বেশিরভাগ অংশ নদীগর্ভে গিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা কেউ কখনও খোঁজও নেননি। তাই মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনার সাধুপাড়ার বাসিন্দারাই চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে নদীর জলপ্রবাহের আলাদা ক্যানাল তৈরি করলেন। তিন- চারদিনের চেষ্টায় তাঁরা মুজনাই নদীর চড়া কেটে তৈরি করেছেন প্রায় দুশো মিটার দীর্ঘ একটি ক্যানাল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই এলাকায় নদীভাঙন রোধে এগিয়ে আসেননি কোনও জনপ্রতিনিধি। বাধ্য হয়ে তাঁরা নিজেরাই নদীভাঙন রোধে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যদিও উদাসীনতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি ও তৃণমূল- দুই দলের জনপ্রতিনিধিরা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধুপাড়ায় বছরের পর বছর ধরে পাড়ভাঙনের ফলে বিঘার পর বিঘা জমি মুজনাই নদীর গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ পর্যন্ত নেন না বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে চাঁদা তুলে গত বৃহস্পতিবার থেকে তাঁরা আর্থমুভার নিয়ে আসেন। এছাড়া যাঁদের বাঁশঝাড় রয়েছে তাঁরা বাঁশ দিয়েছেন। তাঁরা জানান, ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিন-চারদিন ধরে কাজ করার পর নতুন নালা দিয়ে নদীর কিছুটা জল বয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে অল্প হলেও পাড়ভাঙনের মাত্রা কমেছে এলাকায়। এলাকার বাসিন্দা অমল রায় বলেন, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধায়ক সবাই নদীভাঙনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গিয়েছেন। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেননি। তাই চাঁদা তুলে, নিজেরা পরিশ্রম করে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করছি। ঘরে ঘরে অভাব। অথচ এমন পরিস্থিতিতেও চাঁদা তুলে নদীভাঙন রোধে কাজ করতে হচ্ছে।

- Advertisement -

কয়েক বছরে পাড় ভাঙছে। পশ্চিম দিকে সাধুপাড়ার ভিতরে ঢুকে পড়েছে মুজনাই নদী। নদীর পূর্ব দিকে জেগে উঠেছে বিরাট চড়া। ওই চড়ার ওপর দিয়ে নালা কেটে নদীর গতিপথ দূরে সরানোর চেষ্টা করেছেন সাধুপাড়ার বাসিন্দারা। মাদারিহাট-বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য তথা খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাজিদ আলম বলেন, বিভিন্ন এলাকায় পাড়ভাঙন ঠেকাতে পাড়বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুটি জায়গায় পাড়বাঁধ তৈরির জন্য টেন্ডারও ডেকেছে রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। চাঁদা তুলে ক্যানাল তৈরির বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বলেন, উদাসীনতার প্রশ্নই নেই। ভাঙন ঠেকাতে পাড়বাঁধ তৈরির আবেদন লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু রাজ্য সরকারের কোনও বিভাগই তো আমাদের আবেদনে সাড়া দেয় না।