চালুর আগেই মার্কেট কমপ্লেক্সের সিলিংয়ের চাঙর খসে বেহাল অবস্থা

652

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: তৈরির পরও দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয় ব্যবহারের আগেই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভবনের সিলিংয়ের একাংশ উড়ে গিয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। সেটা সারাইয়ের বিষয়েও কোনও উদ্যোগ গৃহীত হয়নি। ফলে মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা বাজারে থাকা উদ্বোধন না হওয়া মার্কেট কমপ্লেক্স নিয়ে এলাকার মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মনে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।

তাঁদের বক্তব্য, তৈরির পরও ভবনটি মাসের পর মাস ফেলে রাখা হচ্ছে। ভবনের দ্বিতল এবং ত্রিতল কোনও কাজে আসছে না। দ্বিতল ভবনে থাকা স্টলগুলিও বিলি করা হচ্ছে না। স্টলগুলি বিলি করে দেওয়া হলে সেগুলি ভাড়া নিয়ে কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে। অথচ এইবিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা মনে করছেন, পুরো ভবনটিকে ঠিকমতো কাজে লাগানো গেলে সাধারণ মানুষ যেমন উপকৃত হবেন তেমনি সরকারেরও রাজস্ব আদায় হবে। এদিকে চালুর আগেই সিলিং খসে পড়ার বিষয়টি নিয়েও এর আগেই নানা প্রশ্ন উঠেছিল প্রশাসনের অন্দরেও। এই অবস্থায় সিলিং সংস্কার করে পরে থাকা তলদুটি চালু করার দাবি করেছেন এলাকাবাসী সহ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা। এই কমপ্লেক্সটির ত্রিতলে সরকারি নিয়ম মেনে অতিথিনিবাস হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। দিনের পর দিন অবহেলায় পরে থাকলে ভবনটির অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কেট কমপ্লেক্সের স্টলগুলি বিলি এবং এইনিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও দাবি প্রসঙ্গে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া অবশ্য জানিয়েছেন, মার্কেট কমপ্লেক্সটি পঞ্চায়েত সমিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের তরফে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়তি সরকার জানান, বিষয়গুলি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছি। গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, চ্যাংরাবান্ধা বাজারে প্রবেশের মুখেই রাস্তার পাশে ২৯ লক্ষেরও বেশি টাকা খরচ করে ত্রিতলভবন বিশিষ্ট মার্কেট কমপ্লেক্সটি তৈরি করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরের বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করে এই ভবনটির প্রথমতল এবং দ্বিতীয়তলে স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথমতলের স্টলগুলি বিলি করা হয়েছে অনেকদিন আগেই। কিন্তু দ্বিতলে থাকা ১১টি স্টল এখনও অবধি বিলি হয়নি বলে অভিযোগ। এদিকে এই ভবনের স্টলগুলি বিলির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরাও। চ্যাংরাবান্ধা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মিতুল সাহা বলেন, ‘দাবির কথা ইতিপূর্বেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কারণ এটি চালু হলে অনেকটাই সুবিধা হবে।’