সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : প্রায় এক বছর আগে উদ্বোধন করা হয়েছে নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্রটির। কিন্তু উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর এটি জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর না করায়, আজও সেটি চালু হল না। ফলে কার্যত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে ভবনটি। নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ না থাকলেও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হয়ে উঠছে ওই এলাকা বলে অভিযোগ। দ্রুত প্রশাসনের তরফে ওই ভবনটি খুলে দিয়ে নাট্যচর্চার সুযোগ করে দেওয়া হোক বলে দাবি জানিয়েছেন নাট্যকর্মীরা।

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট থেকে প্রার্থী হিসাবে রাজ্যের নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষকে বেছে নিয়েছিলেন। অর্পিতাদেবী তাঁর নির্বাচনি প্রচার নাট্য ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেছিলেন। তিনি বালুরঘাটের শিল্পীদের অনুরোধ করেছিলেন যে, সেখানে নাট্য গবেষণা কেন্দ্রটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁরা যেন তাঁকে সমর্থন করেন। নির্বাচনে অর্পিতাদেবী জয় পাবার পর থেকেই কেন্দ্রটি গড়তে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বালুরঘাটে সমস্ত আধুনিক সরঞ্জাম ও সুবিধা সম্পন্ন একটি থিয়েটার গবেষণা ইন্সটিটিউট তৈরি করবেন। তিনি তাঁর স্বপ্নের প্রকল্পটি ২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে শুরুও করেছিলেন।  উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থানুকূল্যে বালুরঘাট শহর লাগোয়া চকবাখর এলাকায় এই প্রকল্পটি গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিক পর্যয়ে ব্যয় বরাদ্দ ছিল প্রায় সাত কোটি টাকা। পরে তা নয় কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

- Advertisement -

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি এই নাট্য গবেষণা কেন্দ্রটির উদ্বোধনও সেরে ফেলা হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেবও। দাবি করা হয়েছিল, এই নাট্য গবেষণা কেন্দ্রটিতে অত্যন্ত আধুনিকমানের ব্ল্যাক বক্স সুবিধা রয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে বৃহত্তম। এখানে ৫০ জন ছাত্র এবং অভিনেতার জন্যে শ্রেণিকক্ষ, অনুশীলন কক্ষ ও আবাসিক হিসেবে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে অতিথিদের জন্য বিশ্রাম কক্ষ এবং আরও অনেক কিছু। ২৫০টি আসন সহ গবেষণাকেন্দ্রটির অভ্যন্তরে একটি মুক্তমঞ্চও রয়েছে। নির্বাচনের পরেই এটা জেলাবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে তৎকালীন উদ্বোধকরা দাবি করেছিলেন। কিন্তু ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন অর্পিতা ঘোষ। ফলে এই নাট্য উৎকর্ষ কেন্দ্রটিও কবে চালু হবে তা অজানাই থেকে গিয়েছে সকলের। প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রায় এক বছর হতে চললেও আজও কেন এটি চালু করা হল না তা নিয়ে ধোঁয়াশাই রয়ে গিয়েছে।

এদিকে নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ক্যাম্পাসটি পুলিশ-প্রশাসনেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থায়ীভাবে কোনো নিরাপত্তা না থাকায় অপরাধীরা ক্যাম্পাসটিকে তাদের নিজেদের মত করে ব্যবহার করছে। এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে বলে বালুরঘাট থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন। বালুরঘাটের এক নাট্যকর্মী জিষ্ণু নিযোগী জানান, ওই প্রকল্পের জন্য জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের ভুল ছিল। এটি শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। রাত্রিবেলা থিয়েটার উপভোগ করতে অতদূরে কে যাবেন? নাট্য ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে হয়তো ভাল হত।

প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ এপ্র সঙ্গে বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প এবং এর সঙ্গে অনেকগুলি বিভাগের যোগসূত্র রয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদ এই কেন্দ্রটি তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগকে হস্তান্তর করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে। শীঘ্রই এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর কর্মী নিযোগ ও অন্য প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে পারবে। আশা করি দ্রুত ওই গবেষণা কেন্দ্রটি চালু হবে। জেলাশাসক নিখিল নির্মল এবিষয়ে জানিয়েছেন, হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। আসবাবপত্র সংগ্রহ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থার মতো কয়েকটি কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রকল্পটি হস্তান্তরের পরে আমরা এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেব।