ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে আসছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল

89

বর্ধমান: ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পূর্ব বর্ধমানের বেশকিছু এলাকা। তারমধ্যে জেলার বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিকপাড়া ও জামালপুরের আঝাপুর পঞ্চায়েতের নবগ্রামে হিংসার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দেয়। বুধবার ওই দুই এলাকা পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসনের কর্তারা। হিংসার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাধ্যমত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন প্রশাসনের কর্তারা। তাতেও রেহাই নেই প্রশাসনের। বৃহস্পতিবারই জেলায় আসছেন তপশিলি জাতি কমিশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। ভোটের ফল প্রকাশের পর মিলিকপাড়ায় ১০টি দোকান ও একটি মুড়ির কারখানা ভাঙচুর হয়। এছাড়াও নবগ্রামে হওয়া রাজনৈতিক হিংসায় একই দিনে বিজেপি কর্মী পরিবারের এক মহিলা ও দুই তৃণমূল কর্মী খুন হন।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার তপশিলি জাতি কমিশনের(এনসিএসসি) কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল নবগ্রামে হিংসা কবলিত গ্রামে যাবেন। তাঁরা আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলবেন। রাজ্য ও জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারাও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে থাকবেন। সেখানে একটি কমিউনিটি হলে বিশেষ বৈঠক হতে পারে বলেও খবর। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত হয়েছিল বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বেলকাশ অঞ্চল। বেলকাশ অঞ্চলের মিলিকপাড়া এলাকায় ভোটের ফল ঘোষণার দিন রাত থেকে প্রায় ২০০ জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী এলাকায় তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই পাশের গ্রাম ধরমপুর ও বোধপুরের প্রায় ২০০ তৃণমূল কর্মী দফায় দফায় মিলিকপাড়া এলাকায় আক্রমণ চালায়। ঘটনার দিন রাতে ও পরদিন সকালে তারা সদলবলে এসে ফের এলাকায় ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। সব হারিয়ে অথৈ জলে পড়ে গিয়েছেন ওই দোকান ও মুড়ি কারখানার মালিকরা। নবগ্রামে হওয়া হিংসার ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাঁরাও দিন আনা দিনখাওয়া পরিবারের। নিহতদের মধ্যে একজন সংখ্যালঘু পরিবারের, আর বাকি দু’জন তপশিলি পরিবারের এলাকাবাসী জানিয়েছেন। প্রশাসন কি সহায়তার ব্যবস্থা করে সেদিকে এখন তাকিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, জেলা পুলিশসুপার কামনাশীষ সেন সহ প্রশাসনের অন্য কর্তারা মিলিকপাড়ার মুড়ি কারখানার মালিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। মুড়ি কারখানার মালিকের ছেলে, অপু মল্লিক জানান, সব ভেঙে দিয়ে গিয়েছে। এদিন প্রশাসনের কর্তারা এসে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতিপূরণ দেবার ব্যবস্থা করার কথা শুনিয়ে গিয়েছেন। বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ও মিলিকপাড়ার বাসিন্দা সহদেব মল্লিক বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকার বেশি হয়েছে বলে তাঁদের অনুমান।’