গ্রিন করিডরে এসএসকেএমে পৌঁছোলেন মুখ্যমন্ত্রী, দেখা করলেন রাজ্য়পাল

56
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পেশ করার পর বিরুলিয়ায় হঠাৎ করেই গাড়িতে ওঠার সময় পায়ে চোট পান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকায় তাকে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে গ্রিন করিডোর করে এক ঘন্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যেই নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে। মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসায় চার সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়। অন্যদিকে, এমআরআই করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজিতে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়ার আগেই সেখানে পৌঁছোন তাঁর ভাইপো তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সহ তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা। মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছোতেই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। রাজ্যপাল সরাসরি হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রীর কেবিনে যান। সেখানে তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে রাজ্যপাল গো ব্যাক শ্লোগান তোলা হয়। অন্যদিকে, রাজ্যপালের গাড়িটি বেরিয়ে যাওয়ার সময় কিছু তৃণমূল সমর্থককে জুতা ও ছুড়তে দেখা যায়।

রাজ্য পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, যেহেতু নির্বাচন বিধি বর্তমানে বলবৎ হয়েছে সেহেতু মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য কোন পোশাকধারী পুলিশ রাখা হয়নি। নিরাপত্তার জন্য কম করে কুড়িজন সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মী থাকে সর্বক্ষণ নজরে রেখেছিল। কিন্তু তা সত্বেও কিভাবে তিনি আঘাত পেলেন সে ব্যাপারটা তারাও বুঝে উঠতে পারছেন না।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য অভিযোগ করেন, তিনি যখন গাড়িতে উঠতে গেলেন সেই সময় চার থেকে পাঁচজন তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে যান। তারা তাঁর গায়ের উপর গাড়ির দরজা ঠেলে ধরে। তিনি পায়ে যেমন আঘাত পান তেমনি মাথাতে চোট পান বলে জানান।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বিধি বলবৎ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক ব্যবস্থাটা নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে গিয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা কেন ঘটল তার জবাব নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে।’

অপরদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনা করে বলেন, ‘তাঁর উপরে হামলার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী করছেন সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই এর উপর ন্যস্ত করার আর্জি পেশ করেন।’

অপরদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অবশ্য এদিন মুখ্যমন্ত্রীর তোলা অভিযোগকে রাজনৈতিক ভন্ডামি বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘নন্দীগ্রাম থেকে জিততে পারবেন না বুঝেই তিনি সেখান থেকে অন্য কোন কেন্দ্রে সরে আসার পথ খোঁজার উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ তুলেছেন।’

সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম জানান, আগে অসংখ্যবার তৃণমূল নেত্রী পালে বাঘ পড়েছে বলে রব তুলেছিলেন। আজকের ঘটনা আবার প্রমাণ করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েই। তাঁরা যে কোনো আক্রমণের ঘটনারই নিন্দা করেন। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যখন জেলায় যান তখন আশেপাশের পাঁচটা জেলার পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে থাকেন। তার মধ্যে আক্রমণের ঘটনা ঘটেই বা কি করে! এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর উপর যখন হামলা চালানো হয়েছে সে সময় আশেপাশে কোন পুলিশ ছিল না। সাধারণভাবে তিনি যখন জেলা সফরে যান সে সময় সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর কাছাকাছি থাকেন। কিন্তু এদিন কেউ ছিলেন না।

পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর তোলা ওই অভিযোগের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করা হয়নি। বুরুলিয়া বাজার এর কাছে যে খান টিতে ওই ঘটনা ঘটেছে সেখানকার মানুষ জনের কাছ থেকে পাওয়া খবরে জানা যায় যে, মুখ্যমন্ত্রী গাড়িটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তার কাছেই ছিল একটি পিলার। মুখ্যমন্ত্রীর ঢোকার জন্য গাড়ির দরজা খোলা ছিল। তিনি গাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করার আগেই চালক গাড়ি আস্তে করে এগোতে থাকলে ওই পিলারের খোলা দরজাটা লেগে গেলে তা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে আঘাত পান বলে তাদের ধারণা।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ওই আহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি বার্তা পাঠিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, প্রয়োজনবোধে কেন্দ্রীয় সরকারই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে পারে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই প্রস্তাব কে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়।