শঙ্খ বাজিয়ে নেতাজির জন্ম মুহূর্ত স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

157

কলকাতা: আজ নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। কিন্তু কে বেশি ‘নেতাজিপ্রেমী’ তা নিয়ে সরগরম রাজনীতির মহল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর সকাল থেকে তা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে সব রাজনৈতিক দল। তা নিয়ে পরোক্ষভাবে টুইট-টক্করে অবতীর্ণ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ‘পরাক্রম দিবস’ নাকি ‘দেশনায়ক দিবস’ পালন করা হবে, তা নিয়েও ‘দ্বন্দ্ব’ প্রকট হয়ে উঠেছে। সেই আবহেই ঘণ্টা ছয়েকের সফরে কলকাতায় আসতে চলেছেন মোদি। একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্যও।

- Advertisement -

নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ট্যুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাই। তিনি ছিলেন প্রকৃত নেতা, যিনি ঐক্যবদ্ধতায় বিশ্বাস করতেন। আমরা আজকের দিনটি দেশনায়ক দিবস হিসেবে পালন করছি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বছরভর উৎসব উদযাপনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজারহাটে আজাদ হিন্দ ফৌজের নামে তৈরি হবে স্মৃতিসৌধ। নেতাজির নামে তৈরি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, যার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার রাজ্য সরকার বহন করছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, ট্যুইটে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার ২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজেও স্মরণ করা হবে নেতাজিকে। নেতাজির জন্মদিবসে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করুক কেন্দ্র। এদিন ট্যুইটে ফের দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শঙ্খ বাজিয়ে নেতাজির জন্ম মুহূর্ত স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে নেতাজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এদিন শ্যামবাজার থেকে রেড রোডে নেতাজির মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত একটি পদযাত্রায় শামিল হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা ১২টা ১৫মিনিট নাগাদ শ্যামবাজারে শাঁখ বাজালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে পদযাত্রা মুখ্যমন্ত্রীর। নেতাজির জন্মবার্ষিকী পালনে একমঞ্চে থাকবেন মোদি-মমতা। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পরিদর্শন সহ এদিন ২টি গ্যালারির উদ্বোধন হবে। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মুখ্যমন্ত্রীও। ‘তবে সেই অনুষ্ঠানে গেলেও লাইনে দাঁড়াব না’, স্পষ্ট বার্তা মমতার।

নেতাজি মানে দর্শন, নেতাজি মানে আবেগ। নেতাজির পরিবার গর্বের পরিবার। এদিন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাসভবনে গিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এই কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘একজন বাঙ্গালী হিসেবে তার দুঃখ একটাই রয়ে গিয়েছে, তা হল নেতাজির জন্মদিন জানলেও তাঁর মৃত্যুদিন কোন বাঙালি জানতে পারেনি।
তাঁর মতে নেতাজির মতো দেশপ্রেমী পৃথিবীর বুকে বিরল। তাঁর দূরদর্শিতা ছিল ছিল অভাবনীয়। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি তাঁর হাতেই তৈরি। শুধু তাই নয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস একজন বড় দার্শনিক ছিলেন। সেই কারণে তিনি ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশন গঠন করেছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে সেটা তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন তা তুলে দেওয়া হয়েছে এর জবাব বাঙালিরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অবশ্যই চাইবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘নেতাজি কখনও কারোর দয়ায় বিশ্বাস করতেন না। তাঁর আদর্শ ও গর্বই হল একজন বাঙালিকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একমাত্র রাস্তা। তাই তাঁরা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম দিবসটিকে ‘দেশনায়ক দিবস’ হিসেবে পালন করার কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কেন্দ্রের কাছে দাবি তুলেছেন নেতাজির জন্মদিনটিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হোক। শুধু তাই নয় যাঁরা নেতাজীকে নিয়ে রাজনীতি করছে তাঁদের বিরুদ্ধেও তীব্র ধিক্কার জানান তিনি।’

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিবস উপলক্ষ্যে শনিবার কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পরিদর্শন সহ এদিন ২টি গ্যালারির উদ্বোধন করবেন তিনি। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক সূত্রে খবর, এদিন দুপুর সাড়ে ৩টায় বিমানে কলকাতা পৌঁছোবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে যাবেন রেস কোর্সে। রেস কোর্স থেকে ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন নরেন্দ্র মোদি। বিকেল ৪টা ২৮মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে পৌঁছোনোর কথা রয়েছে। সেখানে উদ্বোধন করবেন ‘নির্ভীক সুভাষ’ নামে স্থায়ী একটি গ্যালারি। পাশাপাশি, ‘বিপ্লবী ভারত’ নামে আর একটি গ্যালারিরও উদ্বোধন করবেন তিনি।

নেতাজির ১২৫-তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে রাজ্যে আসার আগে ট্যুইট করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের প্রিয় ভাই ও বোনেরা, পরাক্রম দিবসের, এই শুভ দিনটিতে আপনাদের মধ্যে আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। কলকাতায় এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমরা বীর-কেশরী সুভাষচন্দ্র বসুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাব।’ এরপর আরেকটি ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ভারত-মাতার সন্তান, প্রকৃত যোদ্ধা সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীতে শতকোটি অভিবাদন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর ত্যাগ ও বলিদান দেশবাসীর কাছে চিরস্মরণীয়।’