সন্তানের বয়স পনেরোর মধ্যে? সতর্ক থাকুন

220

করোনা ঘুম কেড়েছে বছরখানেক হল। লকডাউন, কাজ নেই, তার সঙ্গে শরীর খারাপের ভয়। চারপাশে আতঙ্ক থাবা বসিয়েছে জোরদার। এই একবছরে শুধু শারীরিক ভয় নয়। মানসিক স্বাস্থ্যও এসে ঠেকেছে তলানিতে। এবার আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়া। সন্তানকে সুস্থ রাখার চিন্তা। করোনার প্রথম ঢেউয়ে কাঁপিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় ঢেউ নাজেহাল করে ছাড়ছে। সবচেয়ে চিন্তা এর পরেরটাকে নিয়ে তৃতীয় ঢেউ। সে ঢেউ নাকি দুলিয়ে ছাড়বে শৈশবকে। কমবয়সীদের উপর প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের তেমনই অনুমান। কমবেশি পনেরো বছর অবধি ছোটদের লড়তে হবে সেই তৃতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে।

দেশের চিকিৎসক এবং কোভিড বিশেষজ্ঞরা এই একটি আশঙ্কাতেই এখন থেকে একমত। আগামী শীতে করোনার তৃতীয় ঢেউ এ দেশে আছড়ে পড়ার কথা। তার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতে পারে কম বয়সীদের। শুধু যে আশঙ্কা করেই দায় মেটাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, তা নয়। মুম্বইয়ের মতো কিছু কিছু জায়গায় আগাম তৈরি রাখা হচ্ছে শিশুদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কথা শুনেই ২-১৮ বছর বয়সীদের টিকাকরণ নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ভাবনাচিন্তা। ইতিমধ্যে হয়তো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আরম্ভ হয়ে যাবে। তারপরেই চূড়ান্ত টিকাকরণের কাজ। অর্থাৎ সবদিক থেকেই শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে দেশজোড়া বিশেষজ্ঞদের।

- Advertisement -

সতর্কতা যখন এই পর্যায়ে তখন সময় থাকতে থাকতেই সাবধান হওয়া ভালো। শুধু যে চিকিৎসকরা লড়ে যাবেন, তা তো হয় না। শিশু এবং কমবয়সীদের সুস্থ রাখার জন্য তাদের পরিবারকেও এখন থেকেই ভাবতে হবে। প্রতিটা বাড়ি যদি এ ব্যাপারে আগুয়ান হয়, তাহলে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিশ্চিত জয়লাভ করবে নতুন প্রজন্ম। যুদ্ধের প্রস্তুতিটা বরং আজ থেকে শুরু করে দিলেই ভালো। যতটা বেশি সময় হাতে পাওয়া যায় ততই ভালো!

শুরুতেই সন্তানের ওজনের দিকে নজর দিন। লকডাউনে বাড়িতে বসে চর্বি জমে যাওয়া ছাড়া আর উপায় কি! একবছর ধরে স্কুল বন্ধ। খেলা বন্ধ। কোথাও বেরোনো বন্ধ। বাড়িতে বসে বসে কম্পিউটারের সামনে পড়াশোনা আর অনলাইন গেম ছাড়া ছোটদের সেভাবে অন্য গতি নেই। কিন্তু এই যে বাড়িতে বসে থাকা আর খাওয়া, এতে বাচ্চাদের ওজন বাড়তে বাধ্য। স্থূল শরীরের বাচ্চাদের নানারকম শারীরিক গোলযোগ থাকে। বিশেষ করে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম।

এই সমস্যার আশু সমাধান দরকার। বাচ্চাদের শরীরচর্চা করান। বাড়িতেই। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করুক। ছাদে হাঁটুক। যে করেই হোক, বাড়তি ওজন ঝরাতেই হবে। ছোটদের পুষ্টিকর খাবার দিন। বাড়িতে থাকা মানেই মুখরোচক খাবার বানিয়ে দেওয়া নয়। এখন থেকে অভ্যেস করান। শরীর সুস্থ রাখতে যা যা খাবার প্রয়োজন, সেই সব খাবার খেতেই হবে। এখন থেকেই শুরু হোক সেই অভ্যেস।

শুধু পুষ্টিকর খাবার নয়, বাচ্চা যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে জলও খায়, সেদিকে নজর রাখুন। শরীরকে কোনওমতেই ডিহাইড্রেটেড হতে  দেবেন না। নিজেদের সুস্থতার জন্য যেভাবে গরম জলের ভেপার নেন, বাচ্চাকেও তা অভ্যেস করান। একটু বড়রা নিজে নিজে নিতে পারবে। ছোটদের কোলে বসিয়ে করিয়ে দিন।

সন্তানের শরীর ভালো রাখার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু মন ভালো রাখাটাও জরুরি। পছন্দের কাজ করতে দিন। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, গান শোনা বা গাছের যত্ন। দিনের একটা সময় যাতে এই কাজগুলো ওরা করতে পারে, সেদিকে নজর রাখুন। ওদের সঙ্গে গল্প করুন। হাসুন। খেলুন। অকারণ খিটখিটে হয়ে গেলে বা ঘ্যানঘ্যান করলে, বকবেন না। ওদের মনের উপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে। সেটা বুঝুন। যতটা পারেন, নেগেটিভ খবর থেকে ওদের দূরে রাখুন। বাড়িতেও অহেতুক রোগ কিংবা আতঙ্কের আলোচনা করবেন না। ওদের সামনে তো নয়ই। সুস্থ থাকার জন্য শুধু সুস্থ শরীর নয়, সুস্থ মনও ভীষণ প্রয়োজন।