স্কুলের মুখ দেখে না এই এলাকার ছেলেমেয়েরা

91

রায়গঞ্জ: নদীর বুকে নৌকা ঠেলেই দিন কাটে ওদের। স্কুলের উঠোনে পা পড়েনি। নদী আর নৌকোয় ফুরিয়ে যাচ্ছে শৈশব। খিদের সময় পুষ্টিকর খাবারই ওদের ভরসা। সুরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের গোড়াহার গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর ধারে ডামডোলিয়া, বাজিতপুর, রহমতপুর গ্রামের (বিহার) চালা ঘরে বাস করা পরিবারগুলির বাচ্চাদের এটাই দীর্ঘদিনের রোজনামচা। পেশায় দিনমজুর, খেতমজুর, জনমজুর নিজেদের এলাকা ছেড়ে পেটের টানে বহুদূরের রাজ্যে ওই সব শিশুদের বাবারা। আর সন্তানরা সকাল বিকাল নদীর জলে, জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়ে অকালে হারিয়ে ফেলছে নিজেদের শৈশব। দেখাশোনার কেউ নেই। মইনুল আলি, আবেদ আলিরা সবে দশে। নদী পেরিয়ে ওই বয়সি অন্য ছেলেমেয়েরা স্কুলে ছুটছে। ওরা তখন নৌকা বেয়ে খেয়ালখুশিতে মজে রয়েছে। গ্রামের মধ্যে প্রাথমিক স্কুল। অথচ স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা ভুলেও ওইসব কচিকাঁচাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বারিওলঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, এই অভিযোগ ঠিক নয়। এসব শিশুরা ডামডোলিয়া, বাজিতপুর, রহমতপুর, বারিওলঘাটের বাসিন্দা হলেও গ্রামের ওই অংশটি বিহারের আবাদপুর থানার অন্তর্গত। ফলে ওই শিশুদের ভর্তি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ওই শিক্ষক বলেন, ‘ওই গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, হিন্দিতে ওদের পড়াশোনা করাতে হবে। কিন্তু হিন্দি বিষয় তো আমাদের স্কুলেই নেই। তাহলে আমরা কি করব? রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিমি দূরের গ্রাম বারিওলঘাট। পাশ দিয়ে খরস্রোতা দুই নদী মিশেছে মহানন্দায়। রহমতপুর গ্রামের (বিহার) ছেলেমেয়েদের নদী ঘিরেই জীবন। ওই বাচ্চাদের শরীরজুড়ে অপুষ্টির চিহ্ন। রোগা-পাতলা ওই শিশুরা দিনের পর দিন এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রাথমিক স্কুল থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, সবই রয়েছে এই গ্রামে। কিন্তু আইনি জটিলতায় ওই শিশুরা এইসব কেন্দ্র থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে হিন্দি মাধ্যমে একটি স্কুল ও একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গ্রামে চাই। এদিকে গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলা-বিহার ভাগ হওয়ার সময় এই গ্রামটির কিছু অংশ সেরাজ্যের আবাদপুর থানার অন্তর্ভুক্ত হয়। সে কারণেই এই বিপত্তি।’ ওই সমস্ত শিশুরা শিক্ষার বাইরে থেকে একদিন অপরাধ জগতের সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। ওই সমস্ত গ্রামের শিশুদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান সুরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা দাস।

- Advertisement -