বিহার রেজিমেন্টের বাহাদুরি দেখে বিস্মিত চিনা ফৌজ

901

নয়াদিল্লি : গালওয়ান উপত্যকায় খালি হাতে শত্রুর মোকাবিলা করতে আসা ভারতীয় সেনা জওয়ানরা কীই বা করতে পারবেন! বড়জোর একটু ধাক্কাধাক্কি আর খানিকটা বচসা। তারপর পিছু হটা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার থাকবে না। এমনটাই ধারণা ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)র। কিন্তু বিপুল শক্তি থাকা সত্ত্বেও সোমবার রাতে ভারতীয় সেনার বিহার রেজিমেন্টের তরফে খালি হাতে বাহাদুরির যে নমুনা চিনা ফৌজ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে, তারপর বেজিংয়ে মুখ চুন হওয়াটাই স্বাভাবিক।

চিনের কমিউনিস্ট শাসক এবং সরকারি মদতপুষ্ট সংবাদমাধ্যম যতই ভারতের বিরুদ্ধে তর্জন গর্জন করুক, বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানদের মারের বদলা মার দেওয়ার নীতি দেখে বিস্মিত লাল ফৌজ। আর হবে নাই বা কেন! সমর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চিনা বাহিনী গালওয়ান উপত্যকায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রাসন চালিয়েছে। তারা ভারতীয় জওয়ানদের ওপর কাঁটাতার জড়ানো রড, পেরেক লাগানো লাঠির মতো সাঙ্ঘাতিক অস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল। তার জবাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিহার রেজিমেন্টের এক-এক জন জওয়ান ও আধিকারিক কিল, চড়, লাথি, ঘুষি দিয়ে চিনাদের চোখ কপালে তুলে দিয়েছিল। অন্তত পরিসংখ্যান বলছে, কর্নেল ও সেনা জওয়ান ভারতের ২০ জন বীর শহিদ হলেও চিনের সেনা আধিকারিক ও জওয়ান সমেত হতাহতের সংখ্যা ৪০-এরও বেশি।

- Advertisement -

অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নয়, গোলা-বারুদও নয়। বিহার রেজিমেন্টের প্রত্যেক জওয়ানের ঢাই কিলো কা হাত বাস্তবিকই চিনা ফৌজের আত্মারাম খাঁচাছাড়া করে দিয়েছে। ১৯৪১ সালে তৈরি বিহার রেজিমেন্ট ভারতীয় বাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পাশাপাশি অতীতের সবকটি ভারত-পাক যুদ্ধে শৌর্য ও নির্ভীকতার পরিচয় দিয়েছে বিহার রেজিমেন্ট। সেকারণে তাদের কিলার মেশিন বলেও খ্যাতি রয়েছে। চিনের লাল ফৌজও এবার সেটা টের পেল। জানা গিয়েছে, ১৫ জুনের সন্ধ্যায় লোকাল কমান্ডিং অফিসার শহিদ কর্নেল সন্তোষ বাবু ৪০ জন জওয়ানকে নিয়ে গালওয়ান পোস্টে যান। সেখানেই চিনা ফৌজ অনুপ্রবেশ করেছিল। তিনি চেয়েছিলেন, কিছুদিন আগে দু-পক্ষের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে সেই অনুযায়ী চিনা ফৌজকে পিছু হটতে বলবেন। কিন্তু চিনা ফৌজ সেই প্রস্তাবে রাজি হওয়া তো দূরস্থান, সাঙ্ঘাতিক অস্ত্রগুলি নিয়ে অতর্কিতে কর্নেল সন্তোষ বাবুর ওপর চড়াও হয়।

সেনার নিয়ম অনুযায়ী, কমান্ডিং অফিসার জওয়ানদের কাছে পিতৃতুল্য। নিরস্ত্র কর্নেলের ওপর চিনা ফৌজের হামলা এবং তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যেতে দেখে মাথায় খুন চেপে যায় বিহার রেজিমেন্টের বাহাদুর জওয়ানদের। চিন ভেবেছিল, কমান্ডিং অফিসারকে ঘায়েল হতে দেখলে ভারতীয় বাহিনী পিছু হটবে। কিন্তু তাদের সেই ভুল ভাঙে বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানদের খালি হাতে সিংহবিক্রমে চিনের বাহিনীর ওপর চড়াও হতে দেখে। চিনের কত শক্তি সেদিকে নজর না দিয়ে বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানরা কার্যত ইটের জবাব পাটকেল ছুড়েই দিতে শুরু করে। ভারতীয় বাহিনীর এক মেজরও দলবল নিয়ে এসে বিহার রেজিমেন্টের সঙ্গে যোগ দেন। ভারতের তরফে এই ধরনের কাঁটে কা টক্কর দেখে চিনের পক্ষে পিছু হটা ছাড়া গতি ছিল না। বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানরা শহিদ হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু দেশকে রক্ষার জন্য তাঁদের বলিদান চিনকে ভারতের শক্তি সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে যে বাধ্য করবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর শোকবার্তায় তাই বলেছেন, ভারতীয় জওয়ানরা মারতে মারতে মরেছেন। ভারত-চিন সংঘর্ষের ইতিহাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় বিহার রেজিমেন্টের সাহসিকতার কাহিনী স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।