গলওয়ান উপত্যকাতেই লতা-রফির গান বাজাত চিনারা

573

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: ১৫ জুন রাতে লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন সেনার সেই ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে রক্তাক্ত হয়েছে গলওয়ান উপত্যকা। গোটা উপত্যকা জুড়ে এখন যুদ্ধের দামামা। উপত্যকার আকাশে উড়ছে বোমারু বিমান, পাহাড়ি রাস্তায় ছুটছে সাঁজোয়া গাড়ি, ট্যাংক। একে অন্যের দিকে অস্ত্র উঁচিয়ে বসে আছে দু’দেশের সেনাবাহিনী। এমন গুরুগম্ভীর, থমথমে পরিস্থিতিতে গান-বাজনা বা আমোদ-প্রমোদের কথা উঠে আসাও অবিশ্বাস্য। কিন্তু তাও দেখেছে এই গলওয়ান ভ্যালি। এখানে একসময় বাজত হিন্দি গান। লতা মঙ্গেশকর বা মহঃ রফির গাওয়া একাধিক সুরেলা সফর। মজার বিষয়, এই গান ভারতীয়রা নয়, চিনারা বাজাতেন ‘বন্ধুত্ব’ করার উদ্দেশ্যে। আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬২-র যুদ্ধের সময়। এদিন এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত অফিসার।

গলওয়ানের এই সংঘর্ষ নিয়ে বক্তব্য রাখতে আসেন প্রাক্তন সেনানী ফুংসুক তাশি। যিনি নিজে ১৯৬২-র যুদ্ধের সাক্ষী। তিনি জানিয়েছেন, ইন্দো-সিনো যুদ্ধের সময় গলওয়ান প্রদেশ জুড়ে ধ্বনিত হত লতা-রফির হিন্দি গান। বাজাত চিনা সৈন্যরা। চাইত বন্ধুত্ব করতে। ৮৪ বর্ষীয় প্রাক্তন সেনানী ফুংসুক সেই ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, দুটি বিশেষ গান চিনারা প্রায়ই লাউডস্পিকারে বাজাত। তা হল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে লতার কন্ঠে ‘নাগিন’ সিনেমার বিখ্যাত ‘মন ডোলে মেরা তন ডোলে’ এবং ওপি নইয়রের সুরে ও রফির কন্ঠে ‘তুম সা নেহি দেখা’।

- Advertisement -

তাশি জানিয়েছেন, সে সময় তিনি ১৪ জম্মু-কাশ্মীর মিলিটয়া কম্পানিতে পোস্টেড, ও গলওয়ান ভ্যালিতে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী ঘোড়া ও ইয়কের পিঠে চেপে পেট্রোলিং করত। লাগাতার সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা সেখানে প্রায়ই লেগে ছিল। চিনারা থাকতেন পাহাড়ের ওপরে, ভারতীয় সেনা ছিল উপত্যকায়।

তাশি বলেন, সে সময় চিনারা হিন্দিতে ‘মাইকিং’ করত। বলত “এই জায়গা ভারতের নয়, চিনেরও নয়। ফিরে যাও। তাহলে আমরাও ফিরে যাব।” বলাবাহুল্য, সেনার জওয়ানরা সে প্ররোচনায় পা দেয়নি। এরপরেই, থেকে থেকে সেই হিন্দি গান লাউড-স্পিকারের সাহায্যে বাজাত চিনারা। গোটা উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়তো লতা-রফির সেই স্বর্গীয় কন্ঠের মায়াজাল। তাশি জানিয়েছেন,চিনারা বন্ধুত্ব করতে চাইতেন। চিনারা চাইতেন ভারতীয় সেনারা যেন গলওয়ান ছেড়ে চলে যায়। বলাবাহুল্য ভারতীয় সেনাদের মন-ভোলানো এতটাও সহজ নয়।

তাশি বলেন, “আমরা ভারতীয়রা গান-বাজনা খুবই ভালবাসি। লতা-রফির ভক্ত সবাই। কিন্তু দেশের ঊর্ধ্বে কিছু নেই। তাই চিনাদের হিন্দি গানের টোটকা কাজে লাগেনি, ভবিষ্যতেও তা কাজে দেবে না। ” তিনি এও বলেন, ১৯৬২-র পর, আর কোনওদিন গলওয়ান অঞ্চলে রক্তাক্ষয়ী সংঘর্ষের নজির উঠে আসেনি। ১৫ জুনে হওয়া সংঘর্ষের কারণও জানা নেই। হয়তো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ধরে ভারতের তরফে কিছু সড়ক নির্মাণের কাজে চাপে পড়েছে চিন। সেই থেকে এই সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনানী ফুংসুক তাশি।