কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভাসল রায়গঞ্জ শহর, নেপথ্যে জলাশয় ভরাট

300

বিশ্বজিৎ সরকার,রায়গঞ্জ: কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ভাসল রায়গঞ্জ শহর। রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটু জল, আবার কোথাও কোমর জল। শহরের নিকাশি ব্যবস্থার যে বেহাল দশা, বর্ষার মরশুমে তা ফুটে উঠলো কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে। এই নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ শহরবাসী।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিকাশি নিয়ে কোনও মাস্টারপ্ল্যান না থাকার জন্যই বৃষ্টি হলেই ভুগতে হয় শহরবাসীকে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে যা হাল হল তাতে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি আরও চরম আকার নেবে। যদিও শহরের একাংশ বাসিন্দাদের দাবি, কসবা মোড় থেকে শিলিগুড়ি মোড় পর্যন্ত জাতীয় সড়কের ধারে জলাশয় বুজে একাধিক নার্সিং হোম, দোকান ঘর, ইমারত তৈরি করা যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। প্রভাবশালীরা জলাশয় বুজিয়ে দেওয়ার কারণেই কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার বলেন, “ভারী বৃষ্টির জন্য এদিন কিছুক্ষণের জন্য জল জমে ছিল। তবে, শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ভাল রয়েছ। উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। শিলিগুড়ি মোড় থেকে কসবা পর্যন্ত জলাভূমি ভরাটের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ওই জায়গা পূর্ত দপ্তরের অধীনে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা নেবেন। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।”

বাসিন্দাদের দাবি, শিলিগুড়ি মোড় থেকে কসবা মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার বুজিয়ে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ইমারত ও দোকানপাট ভেঙে পুনরায় জলাশয়ে রূপান্তরিত করলে ভোগান্তি পোহাতে হবেনা। বর্ষায় শহরে জল জমার নেপথ্যে উঠে এসেছে প্রভাবশালীদের দ্বারা জলাশয় ভরাট।

রায়গঞ্জ শহরের উপর দিয়ে বিস্তৃত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কটি প্রায় নয় কিমি লম্বা। ওই সড়কের দু’পাশে রায়গঞ্জ পুরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড রয়েছে। নয়ানজুলি ভরাটের কারণে গত কয়েক বছর ধরে ওই অংশের ওয়ার্ডের ভিতরে জল জমে যাচ্ছে। বেআইনি কাজ রুখতে আগেই পুরসভাকে পদক্ষেপ করতে হত, দাবি পরিবেশপ্রেমী থেকে সাধারণ মানুষের। একইভাবে শহরবাসী জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

শহরের পরিবেশ প্রেমীদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কের পাশে নয়ানজুলি ভরাটের ফলে ক’বছর ধরে বর্ষার সময়ে সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা দূর্ভোগে পড়েছেন। জলজ প্রাণীর জীবন সংকটে রয়েছে। এই ব্যাপারে আগেই পুরসভা এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হতো।

রায়গঞ্জের বিধায়ক কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “নয়ানজুলি ভরাট করে বাড়িঘর তৈরি হওয়ায় ওই জায়গা গুলি বিপজ্জনক হয়ে আছে। ওই সব জায়গা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের। তাই আমরা এই ব্যাপারে একাধিকবার বলেছি। কিন্তু তারপরেও তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করেনি। আমি রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন মালদহে গিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে নয়ানজুলি ভরাট নিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এরপরেও তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। এখনও সময় আছে, চাইলেই তাঁরা কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে।”

রায়গঞ্জ পুরসভার পূর্ত চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল নয়ন দাস বলেন, কিছু অসাধু লোকজন জাতীয় সড়কের পাশের নয়ানজুলি অবৈধভাবে ভরাট করে নিচ্ছে। পরে তাঁরা ওসব বিক্রি করে দিচ্ছে। নিকাশি নালার জন্য আমরা ওই এলাকায় হিউম পাইপ বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে কাজ করা যাবে না। বিকল্প কিছু আমাদের ভাবতে হবে।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের মালদহ বিভাগের প্রজেক্ট ডিরেক্টর দিনেশ কুমার হানসারিয়া বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দপ্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ড গঠনের পর, জল নিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পরিকল্পনা করে। এজন্য পুরদপ্তরের সহায়তা চায়। কিন্তু বর্তমানে যা অবস্থা তাতে ওসব বাড়িঘর না উচ্ছেদ করলে মাস্টারপ্ল্যান করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিতে দক্ষিণবঙ্গের একটি এজেন্সি টেন্ডারের মাধ্যমে কাজের বরাত পায়। জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে জল নিকাশের জন্য পাইপ বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নয়ানজুলি বন্ধ থাকায় তা বাস্তবায়িত করা যায়নি।