পুরোনো আন্দোলনের মেঘ ঘনাচ্ছে চা বলয়ে

161

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : চা বাগানগুলির কয়েক হাজার মানুষের সামনে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা। যাঁরা বাইরে কাজ করেও চা বাগানে বসবাস করছেন, এমন মানুষজনকে বাগান থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দার্জিলিংয়ের সিংতাম চা বাগান কর্তৃপক্ষ এমন বাসিন্দাদের ঘর খালি করে দেওয়ার লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছে। কিছু চা বাগান আবার মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে। প্রত্যেকটি চা বাগান কর্তৃপক্ষ যে একই পথে হাঁটবে, তা বুঝতে পেরে আন্দোলনে নামছে বিভিন্ন চা শ্রমিক সংগঠনের জয়েন্ট ফোরাম। বাপঠাকুরদার ভিটেমাটি ছেড়ে এত মানুষ কোথায় যাবেন, প্রশ্ন তুলে প্রায় সাত দশকের পুরোনো আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন শ্রমিক নেতারা।

উত্তরবঙ্গে চা শ্রমিক রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার লক্ষ। তবে পরিবারের বাকিদের নিয়ে সংখ্যাটা প্রায় ১২ লক্ষ। এঁদের বড় একটা অংশই বাগানে আর কাজ করেন না। সিটুর দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, অন্য সেক্টরের সঙ্গে চা বাগানকে মেলালে চলবে না। বাগানে কম মজুরির জন্য এখন অনেকেই বাইরে কাজ করেন। কিন্তু অন্যত্র বাড়ি না থাকায় তাঁরা বাগানে বসবাস করেন। তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা হলে কিন্তু আমরা চুপ করে থাকব না। সিরিয়াস মুভমেন্ট হবে।

- Advertisement -

হাট্টা বাহার-এর ছায়া এখন চা বাগানে। একটা সময় ২৪ ঘণ্টার নোটিশে যে কোনও শ্রমিককে বাগানের বাইরে বের করে দিতে পারত চা বাগান কর্তৃপক্ষ। যা ছিল শ্রমিকদের কাছে হাট্টা বাহার, যার বিরুদ্ধে ১৯৫৫ সালে জঙ্গি আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল পাহাড় থেকে সমতলে। দার্জিলিংয়ের মার্গারেট হোপ চা বাগানে ওই বছরের ২৫ জুন মৃত্যু হয়েছিল ছয় শ্রমিকের। ওই ঘটনার পরই ঠিক হয়, ইচ্ছে করলে বাগান কর্তৃপক্ষ কোনও শ্রমিককে বের করতে পারবে না। তবে যাঁরা শ্রমিক নন অথচ বাগানে থাকবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে, সেই সংক্রান্ত কোনও লিখিত নির্দেশিকা নেই। যদিও সেসময় যাঁরা বাগানে থাকতেন, তাঁরা হয় শ্রমিক, না হয় শ্রমিক পরিবারের সদস্য। কিন্তু সময়ে পরিবর্তনে এখন চা বাগানের অনেকেই বাইরে কাজ করছেন। তবে থাকছেন শ্রমিক হিসেবে ঠাকুরদা বা বাবার একসময়ে পাওয়া চা বাগানের কোয়ার্টারেই। এই দখলদারির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাইছে বাগানগুলি। শ্রমিক না হয়ে কেন ঘর দখল করে থাকবেন, এই প্রশ্ন চা বাগান মালিকদের।

টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার তরাই শাখার সচিব সুমিত ঘোষ বলেন, বাইরে কাজ করবে, অথচ বাগানের সমস্ত সুযোগসুবিধা নেবে, তা তো হতে পারে না। এটা কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় প্রতিটি বাগানেই। এমন কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে মাটিগাড়া চা বাগানের ম্যানেজার সৌগত ঘোষ বলেন, আমাদের বাগানেও অনেকে ঘর দখল করে রয়েছেন। বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন বাগান থেকে। তাঁদের একাধিকবার মৌখিকভাবে ঘর খালি করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সিংতাম চা বাগানের ঘটনাকে হাট্টা বাহার হিসেবে দেখছেন শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা। বাকি চা বাগানগুলি ঘর খালির প্রক্রিয়া শুরু করলে প্রচুর মানুষ বাস্তুচ্যূত হবেন বলে আশঙ্কা। সিংতাম চা বাগানের শচীন খাতি বলেন, শ্রমিক পরিবারের সদস্য হলেই সকলকে সারাজীবন বাগানে কাজ করতে হবে, তা তো হতে পারে না। চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি বাবলু মুখোপাধ্যায় বলেন, কাউকে উচ্ছেদ করা সঠিক নয়। তবে আমরা মনে করি দুই পক্ষ আলোচনায় বসলে সমস্যার সমাধান হবে।

পুরোনো আন্দোলনের মেঘ ঘনাচ্ছে চা বলয়ে

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : চা বাগানগুলির কয়েক হাজার মানুষের সামনে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা। যাঁরা বাইরে কাজ করেও চা বাগানে বসবাস করছেন, এমন মানুষজনকে বাগান থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দার্জিলিংয়ের সিংতাম চা বাগান কর্তৃপক্ষ এমন বাসিন্দাদের ঘর খালি করে দেওয়ার লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছে। কিছু চা বাগান আবার মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে। প্রত্যেকটি চা বাগান কর্তৃপক্ষ যে একই পথে হাঁটবে, তা বুঝতে পেরে আন্দোলনে নামছে বিভিন্ন চা শ্রমিক সংগঠনের জয়েন্ট ফোরাম। বাপঠাকুরদার ভিটেমাটি ছেড়ে এত মানুষ কোথায় যাবেন, প্রশ্ন তুলে প্রায় সাত দশকের পুরোনো আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন শ্রমিক নেতারা।

উত্তরবঙ্গে চা শ্রমিক রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার লক্ষ। তবে পরিবারের বাকিদের নিয়ে সংখ্যাটা প্রায় ১২ লক্ষ। এঁদের বড় একটা অংশই বাগানে আর কাজ করেন না। সিটুর দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, অন্য সেক্টরের সঙ্গে চা বাগানকে মেলালে চলবে না। বাগানে কম মজুরির জন্য এখন অনেকেই বাইরে কাজ করেন। কিন্তু অন্যত্র বাড়ি না থাকায় তাঁরা বাগানে বসবাস করেন। তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা হলে কিন্তু আমরা চুপ করে থাকব না। সিরিয়াস মুভমেন্ট হবে।

হাট্টা বাহার-এর ছায়া এখন চা বাগানে। একটা সময় ২৪ ঘণ্টার নোটিশে যে কোনও শ্রমিককে বাগানের বাইরে বের করে দিতে পারত চা বাগান কর্তৃপক্ষ। যা ছিল শ্রমিকদের কাছে হাট্টা বাহার, যার বিরুদ্ধে ১৯৫৫ সালে জঙ্গি আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল পাহাড় থেকে সমতলে। দার্জিলিংয়ের মার্গারেট হোপ চা বাগানে ওই বছরের ২৫ জুন মৃত্যু হয়েছিল ছয় শ্রমিকের। ওই ঘটনার পরই ঠিক হয়, ইচ্ছে করলে বাগান কর্তৃপক্ষ কোনও শ্রমিককে বের করতে পারবে না। তবে যাঁরা শ্রমিক নন অথচ বাগানে থাকবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে, সেই সংক্রান্ত কোনও লিখিত নির্দেশিকা নেই। যদিও সেসময় যাঁরা বাগানে থাকতেন, তাঁরা হয় শ্রমিক, না হয় শ্রমিক পরিবারের সদস্য। কিন্তু সময়ে পরিবর্তনে এখন চা বাগানের অনেকেই বাইরে কাজ করছেন। তবে থাকছেন শ্রমিক হিসেবে ঠাকুরদা বা বাবার একসময়ে পাওয়া চা বাগানের কোয়ার্টারেই। এই দখলদারির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাইছে বাগানগুলি। শ্রমিক না হয়ে কেন ঘর দখল করে থাকবেন, এই প্রশ্ন চা বাগান মালিকদের।

টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার তরাই শাখার সচিব সুমিত ঘোষ বলেন, বাইরে কাজ করবে, অথচ বাগানের সমস্ত সুযোগসুবিধা নেবে, তা তো হতে পারে না। এটা কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় প্রতিটি বাগানেই। এমন কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে মাটিগাড়া চা বাগানের ম্যানেজার সৌগত ঘোষ বলেন, আমাদের বাগানেও অনেকে ঘর দখল করে রয়েছেন। বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন বাগান থেকে। তাঁদের একাধিকবার মৌখিকভাবে ঘর খালি করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সিংতাম চা বাগানের ঘটনাকে হাট্টা বাহার হিসেবে দেখছেন শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা। বাকি চা বাগানগুলি ঘর খালির প্রক্রিয়া শুরু করলে প্রচুর মানুষ বাস্তুচ্যূত হবেন বলে আশঙ্কা। সিংতাম চা বাগানের শচীন খাতি বলেন, শ্রমিক পরিবারের সদস্য হলেই সকলকে সারাজীবন বাগানে কাজ করতে হবে, তা তো হতে পারে না। চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সভাপতি বাবলু মুখোপাধ্যায় বলেন, কাউকে উচ্ছেদ করা সঠিক নয়। তবে আমরা মনে করি দুই পক্ষ আলোচনায় বসলে সমস্যার সমাধান হবে।